মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে পুলিশের হাতে আটক মিয়া জাহিদুল ইসলাম ওরফে মিয়া আরেফি সর্বশেষ গত জুলাইতে গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বেড়াতে যান বলে জানিয়েছেন তাঁর চাচাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আছের আলী।
তাঁরা জানান, মিয়া আরেফির বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের মানিকদিয়ার। গ্রামের মানুষ তাঁকে বেলাল বলেই চেনেন। তাঁর পিতার নাম রওশন আলী মণ্ডল।
গত জুলাই মাসে গ্রামে এসে তার চাচা আব্দুর রশিদের ছেলে জাহাঙ্গীর, জামিরুল ও জিয়াদের বাড়িতে ছিলেন এবং তাঁর দাদা দাদির কবর জিয়ারত ও রুহের মাগফেরাত কামনা করে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। এ সময় তিনি উল্লাপাড়া ডাকবাংলোতে কয়েকদিনের জন্য অবস্থানও করেন।
চাচাতো ভাই ছাইদুর বলেন, 'উল্লাপাড়ার বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলীর সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক আছে। বেলালের বাবা রওশন আলীর সঙ্গে আকবর আলীর একটা ভালো সম্পর্ক ছিল।'
এ বিষয়ে সাবেক এমপি এম আকবর আলী বলেন, 'আরেফির বাবা রওশন আলীর সঙ্গে তাঁর জানা-শোনা ছিল। সেই সুবাদে তাদেরকে তিনি চেনেন।'
মিয়া আরেফি'র গ্রামের বাড়িতে তাঁর চাচাতো ভাই ছাইদুর রহমান ও আছের আলী জানান, স্বাধীনতার কিছু দিন পর মিয়া আরেফি'র বাবা রওশন আলী পরিবার-পরিজন নিয়ে আমেরিকাতে চলে যান। যাওয়ার কয়েক বছর পর তাঁদের গ্রামের বাড়িটি আত্মীয়দের কাছে বিক্রি করে দেন। তবে তাঁদের নিজস্ব জায়গার ওপর একটি পারিবারিক কবরস্থান ও একটি মক্তব রয়েছে। পারিবারিক কবরস্থানে মিয়া আরেফি'র দাদা দাদির কবর রয়েছে। মিয়া পরিবারের ঢাকায় একটি নিজস্ব বাড়িও আছে। মাঝে মাঝে তাঁরা ঢাকায় এসে থাকেন এবং এ সময় তাঁরা গ্রামের বাড়িতেও বেড়াতে যান।
তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা জানান, মিয়া আরেফি'র বাবা রওশন আলী কর্মজীবনে পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে পাবনা পৌর এলাকার শায়েস্থা খাঁ এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেন। মিয়া আরেফি পাবনায় বেড়ে ওঠেন। পরে সবাই আমেরিকা চলে যান।
তবে মিয়া আরেফির স্বজনরা মিয়া আরেফি ওরফে বেলাল মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা কি না বা আমেরিকার কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না তা বলতে পারেননি।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.এনামুল হক বলেন, 'গত জুলাই মাসে মিয়া আরেফি নামের ঐ ব্যক্তি উল্লাপাড়ায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাদা-দাদির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে অনেককে দাওয়াত করেছিলেন। এ সময় তিনি উল্লাপাড়ার ডাকবাংলোতে কয়েকদিন ছিলেন।'
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম বলেন, 'মিয়া আরেফি নামের ঐ ব্যক্তি গত জুলাই মাসে উল্লাপাড়ায় এসেছিলেন। তাঁর খালাতো বোন জামাই সাংবাদিক আব্দুল বাতেন হিরুকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসেন। পরে ওই সাংবাদিক মিয়া আরেফি'র সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আমাকে তাঁর বাড়িতে চা চক্রের আমন্ত্রণ জানান।'
উল্লেখ্য, রাজধানীতে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের পর শনিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক রহস্যময় ব্যক্তিকে দেখা যায়। নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে নিজেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই ব্যক্তির সেই ভিডিও নিয়ে খবর প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর রোববার দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করা হয়।