জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে স্ত্রী ও খালা শাশুড়িকে হত্যার ঘটনায় পলাতক ঘরজামাই রুবেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সৌদি প্রবাসী শাশুড়ির পাঠানো টাকা না পেয়ে দুজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনার ৭দিন পর রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জয়পুরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ সোমবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরে আলম।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মাসুন্দি এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেল হোসেন নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ১২ বছর আগে রুবেল হোসেন আক্কেলপুর উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের সোলায়মান আলীর মেয়ে মিতুকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে ঘরজামাই হিসেবে মিতুর বাড়িতে থাকেন রুবেল। বিয়ের পর প্রায়ই স্ত্রীর কাছ থেকে শ্বাশুড়ির পাঠানো টাকা জোর করে আদায় করে নিতেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ মে (সোমবার) সকালে স্ত্রীর কাছ থেকে শাশুড়ির পাঠানো ৩ লাখ টাকা চান রুবেল। টাকা না পেয়ে স্ত্রী মিতুকে ছুরিকাঘাত করেন তিনি। এ সময় তাঁর চিৎকারে খালা শাশুড়ি এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন রুবেল। বোন ও খালাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে রুবেলের ছুরিকাঘাতে আহত হন শ্যালক নীরব।
পরে এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন খালা আলেয়া বেগম মারা যান। অন্যদিকে মিতুকে বগুড়া নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।
এ ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন রুবেল। পরে তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়ার গাবতলী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী খুনের কাজে ব্যবহার করা ছুরি জব্দ করা হয়।
রুবেলের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার আরও বলেন, অন্য কোনো এক যুবকের সঙ্গে স্ত্রী মিতুকে ফোনে কথা বলতে দেখেন রুবেল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফোনটি ভেঙে ফেলেন। এরপর টাকা দাবি করে না পেয়ে স্ত্রী ও খালা শাশুড়িকে হত্যার পর পালিয়ে যান রুবেল।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মামুন খান চিশতি, আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন হোসেনসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।