নাটোরের বড়াইগ্রামে উজ্জ্বল কুমার মন্ডল নামে এক আওয়ামী লীগ সমর্থককে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বুধবার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিতে বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁর ওপর হামলা হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
হামলার শিকার উজ্জ্বল কুমার মন্ডল বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর শ্মশানঘাট মহল্লার সবজি ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ মন্ডলের ছেলে। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের অনুসারী বলে জানা গেছে। ৫ আগস্টের পর থেকে উজ্জ্বল আত্মগোপনে ছিলেন।
এলাকাবাসী জানায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আতিকুর রহমানের সঙ্গে চলাফেরা করতেন উজ্জ্বল। উজ্জ্বল সরাসরি কোনো রাজনীতি না করলেও আওয়ামী লীগের সমর্থক। গত বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে উজ্জল তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার জন্য নিজ বাড়িতে আসেন। এই খবর এলাকায় জানাজানি হলে জালাল ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর আলম ও শুভ ইসলামসহ কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে উজ্জ্বলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় উজ্জ্বলকে বাঁচাতে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা করা হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, বনপাড়া পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম ইকবাল হোসেন গ্রুপের শ্রমিক দলের নেতা জালাল ভূঁইয়া, যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও শুভ ইসলামসহ ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে উজ্জ্বলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা করা হয়। এছাড়াও উজ্জলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বামী উজ্জ্বলকে বাঁচানোর জন্য গেলে তাঁকেও নির্যাতন করেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা হামলাকারীদের পা ধরে মারধর বন্ধ করারও অনুরোধ করেন। মারধরে একপর্যায়ে উজ্জ্বল অচেতন হয়ে যায়। পরে তাঁকে বসিয়ে পানি পান করানো হয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়।
এরকিছু সময় পর উজ্জ্বল কিছুটা সুস্থ হলে বিএনপির নেতারা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এই ঘটনা নিয়ে উজ্জ্বলের পরিবারের কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। উপজেলা ও জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।