নাটোরে চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অধিকাংশ আহতরা। শুরুতে আহতরা সরকারি ও ব্যক্তিগত খরচে চিকিৎসা করালেও অর্থ সংকটে অনেকে বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসা। তবে আহতের চিকিৎসায় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।
নাটোর সদরের লক্ষ্মীপুর খলাবাড়িয়ার ইসমাইল হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন। রাজধানীতে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে গত ১৭ জুলাই বাসায় ফেরার পথে দুজন পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এ সময় একটি বুলেটে তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
চোখের চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হলেও এখন পর্যন্ত পাননি কোনো সহায়তা। তার চোখের চিকিৎসা করাতে হলে এখন যেতে হবে বিদেশে।
সাব্বির হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে আমি বেকার। আজকে আমার আব্বু–আম্মু দেখছে আমাকে। কাল ওনারা দেখতে পারবেন কিনা এটার তো গ্যারান্টি নেই। আমি এখন বেকার। আবার এক চোখে দেখি না। যেখানে কাজ করতাম আমার চোখের এই অবস্থা শোনার পর আর কাজে নেবে না, মানা করে দিয়েছে।’
শুধু সাব্বির নয়, স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে আহতদের অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা পেলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসার ফলোআপ করতে পারছেন না।
আহতদের চিকিৎসায় সব সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
নাটোরের জেলা প্রশাসক মিজ আসমা শাহীন বলেন, ‘এ বিষয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে ইতিমধ্যে। আহত ও নিহতদের সব সহায়তা করার জন্য জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করে যাবে। যারা আহত হয়েছেন দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
নাটোরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ৮ জন নিহত ও ৮১ জন আহত হয়েছেন।