নাটোরে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রীর সবাই নিহত

নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় নারীসহ ৮ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই ৪ নারী ও ১ পুরুষ এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও এক নারীর মৃত্যু হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় অন্য দুজনের।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের আইড়মারী ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা হয়। নিহতরা দুটি পরিবারের সদস্য এবং নিহত মাইক্রোবাস চালক তাদের আত্মীয়। বড়াইগ্রাম হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলো– কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর এলাকার রফেজ উদ্দিনের স্ত্রী ইতি খাতুন (৪৩), একই থানার ধর্মদহ এলাকার মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৬৫), মৃত জাহিদুলের স্ত্রী শেলি বেগম (৬০), মিজানুর রহমানের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৭৬) ও দৌলতপুর এলাকার শাহাবুদ্দিন।

নিহত অন্যরা হলো– মেহেরপুর জেলার গাংনি উপজেলার মাইক্রোচালক রুবেল হোসেন (৩২), সীমা খাতুন (৩২) ও বেতগাড়ী এলাকার মোহাম্মদ মোল্লার স্ত্রী আন্জুমান (৭৫)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নাটোর থেকে ঢাকাগামী হাইয়েস মাইক্রোবাসটির বিপরীত দিক থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রথমে দুজনের মরদেহ বের করতে পারলেও অন্যদের বের করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ মাইক্রোবাসের বডি কেটে আরও ৩টি মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় আহত উদ্ধার করা হয় আরও ৩ জনকে। যাদের একজন হাসপাতালে যাওয়ার পর সেখানেই মৃত্যু হয়। আহত অন্য দুজনকে  আশঙ্কাজনক অবস্থায় বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নাটোর সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় দুজনেরই।

বড়াইগ্রামের তরমুজ প্যাম্প এলাকার বাসিন্দা মিলন হোসেন বলেন, ‘তরমুজ পাম্প এলাকায় মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা হয়। তিন সপ্তাহ আগেও ট্রাক ও বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে।’

এদিকে, নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মরদেহ সহ আহতদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ট্রাকটি আটক করতে পারলেও ট্রাকের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের আটকের জন্য অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।  আজ বিকেলে বনপাড়া হাইওয়ে থানা থেকে নিহতের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।