নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

নাটোরের বড়াইগ্রামে মাইক্রোবাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ৮ জন নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালক মহির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাটোর সদরের বামনডাঙ্গা গ্রাম থেকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে তাকে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তার ট্রাকচালক মহির উদ্দিন নাটোর সদর উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন।

ওসি জানান, দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক ট্রাক চালককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে র‍্যাবের সহযোগিতা চাওয়া হলে তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ট্রাকচালক মহির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মহির উদ্দিনকে তাদের কাছে হস্তান্তর করে। আজ বৃহস্পতিবার মহির উদ্দিনকে আদালতে পাঠানো হবে।

এর আগে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৮ নিহত হন। নিহত হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ এলাকার জাহিদুল ইসলাম (৫৫),তাঁর স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৫০), বোন রোউসনারা আক্তার ওরফে ইতি (৪৮), চাচাতো বোন আনোয়ারা খাতুন (৫৫), চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৫০), শাশুড়ি আনজুমান খাতুন (৬৫) ও শ্যালিকা সীমা খাতুন (৩৫) এবং মাইক্রোবাসচালক শাহাবুদ্দিন আহমেদ (৪২)।

নিহতের স্বজনেরা জানান, জাহিদুল ইসলামের ছেলে সোহানুর রহমান কুয়েতপ্রবাসী। সোহানুরের স্ত্রী সাফিয়া বেগম সিরাজগঞ্জে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁকে দেখতে জাহিদুল ইসলাম স্বজনদের নিয়ে মাইক্রোবাসে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছিলেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আইড়মারী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। মাইক্রোবাসের আট আরোহীর পাঁচজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজনের মৃত্যু হয়।