রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিন হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে রোগীরা। ১২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৭০০ শিশু। এ পরিস্থিতিকে গুরুত্ব না দিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এ বিষয়ে কাজ করছেন তারা।
রামেক শিশু ওয়ার্ডে দেখে বোঝার উপায় নেই কোন শিশু হামে আক্রান্ত, অথবা কে নিউমোনিয়া বা অন্য রোগে আক্রান্ত। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও, রাজশাহী মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে সব রোগীই যেন মিলেমিশে একাকার। অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে আসা শিশুর অভিভাবকেরাও শঙ্কিত।
অভিভাবকেরা বলছেন, হাসপাতালে অনেক রকমের রোগ নিয়ে ভর্তি শিশুরা। সব শিশুদের একই ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাম ছোঁয়াচে হলেও এ রোগের চিকিৎসার জন্য তো অন্য রোগের চিকিৎসা বন্ধ থাকতে পারে না।
এ বিষয়ে রামেকের শিশু ওয়ার্ড প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন বলছেন, শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে হাম রোগীদের জন্য দুটি ওয়ার্ডে আইসোলেশন করনার করা হয়েছে। তারপরও সংকুলান হচ্ছে না। আরও যদি রোগী বাড়ে তাহলে অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বেলাল আহমেদ বলছেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের সংস্পর্শে এলে যে শিশুদেরকে হাম প্রতিরোধক টিকা দেওয়া হয়নি তারা দ্রুত আক্রান্ত হতে পারে। অতি সংক্রামক এই রোগকে অবহেলা করলে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এরইমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।
রাজশাহী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে শিগগিরই একটি এমআর ক্যাম্পেইন করব। আশা করা যায়, এতে হামের প্রকোপ কমে আসবে।’
গত দুই মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৮০ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের।