বগুড়ার ধুনট ডিগ্রি কলেজে বন্যার্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন অধ্যক্ষ সোলায়মান হোসেন। সেখানে কলেজের টাকায় এসি আর আসবাবপত্র কেনার অভিযোগও আছে। অবকাঠামো পরিবর্তন না করার কঠিন শর্ত থাকলেও, রুমের মাঝে তোলা হয়েছে দেয়াল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রায় প্রতি বছরই বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানুষ বন্যায় দুর্ভোগ পোহান। চরবাসীদের থাকার জায়গা থাকে না। ধ্বংস হয় অনেক বাড়িঘর।
বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে একটি আশ্রয়কেন্দ্র আছে। তবে সেটি এখন আশ্রয়কেন্দ্র নয়, ব্যবহার হচ্ছে গেস্টরুম হিসেবে। এখানে বাস করছেন কলেজের অধ্যক্ষ।
এলাকাবাসী জানান, অন্যান্য সময়ে এই কেন্দ্র কলেজের কাজেই ব্যবহার হয়। তবে যখন এটি একজন অধ্যক্ষ নিজের বাসভবন মনে করে এসি সংযোগ দিয়ে ব্যবহার করে সেটি আসলে দুঃখজনক।
তিন তলা আশ্রয়কেন্দ্রটি ঘুরে দেখা যায় তৃতীয় তলার অর্ধেকে তৈরি করা হয়েছে বিলাসবহুল ঘর। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লাগানো হয়েছে এসি, রাখা হয়েছে দামি আসবাবপত্র। কাঠামো পরিবর্তন করে কয়েকটি ঘরে দেওয়া হয়েছে দেয়াল।
বগুড়া ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ এ.কে.এম. সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘কলেজের প্রয়োজনে এখানকার গেস্ট রুমে অনেক সময় অধ্যক্ষ হিসেবে আমাকে অবস্থান করতে হয়। তবে বাসা ভাড়ার সঙ্গে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
অভিযোগ আছে, কলেজের অর্থায়নে কেনা হয়েছে এসি আর আসবাবপত্র। এমন কাণ্ডে সরকারি প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউএনও।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, ‘এমওইউ হাতে না পেলে কিছু বলা যাচ্ছে না। এটি না পেয়ে কিছু বললে আসলে না জেনে কথা বলা হয়ে যাবে।’
বন্যা ছাড়া অন্য সময়ে কলেজের প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্রটি ব্যবহারের অনুমতি আছে। তবে অবকাঠামো বা নকশা বদল করা যাবে না।