জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ ধানখেতে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী বাবলু মিয়াকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহতের মরদেহ উপজেলার সাঁতার গুচ্ছগ্রাম এলাকার একটি ধানখেত থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকার একটি গভীর নলকূপের ঘর থেকে বাবলু মিয়াকে আটক করে পুলিশ।
নিহত নারীর নাম আশুরা বেগম। তিনি একই উপজেলার মুন্ঝার এলাকার মছন্দার গ্রামের আইচান আলীর মেয়ে। অন্যদিকে অভিযুক্ত অভিযুক্ত সাবেক স্বামী বাবলু মিয়া পার্শ্ববর্তী মালিগাড়ি গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেন ওরফে মফা আলীর ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান।
এলাকাবাসীদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, আশুরা ছিলেন বাবলুর তৃতীয় স্ত্রী। গত প্রায় ৪ মাস আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তাদের মধ্যে তালাক হলে আশুড়া বাবলুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এ অবস্থায় হঠাৎ কয়েক দিন আগে আশুড়া বাবলুর বাড়িতে ওঠেন এবং গত শুক্রবার এলাকাবাসী তাদের দিনভর বিভিন্ন স্থানে হাসিখুশি অবস্থায় ঘুরতে দেখেন। তবে সন্ধ্যার পর থেকে তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়া যাচ্ছিল না।
ওসি আরও জানান, আজ শনিবার ভোর রাতের দিকে সাঁতার গুচ্ছগ্রাম এলাকার ধানক্ষেতে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তা আশুরার বলে শনাক্ত করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বেলা ১১টায় জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গতকাল রাতের কোনো এক সময় বাবলু মিয়া স্টিলের পাইপ দিয়ে আশুরার মাথার পেছন দিকে আঘাত করে। হত্যার পর ওই ধানখেতে মরদেহ লুকিয়ে রাখেন ও একই এলাকার একটি গভীর নলকূপের ঘরে তিনি আত্মগোপন থাকেন। পরে সেখান থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।