সিসিটিভিতে ধরা পড়ল দুই খুন, এক মিনিটে পালায় ৬ মুখোশধারী

ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিট। পশ্চিম দিক থেকে আসে ছয় মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। এসেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে তারা। মাত্র এক মিনিটের মধ্যে দুজনকে গুলি করে হত্যার পর আবার পশ্চিম দিক দিয়েই পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়, যাতে কেউ তাদের বাধা দিতে এগিয়ে না আসে।

পাবনার আতাইকুলার পুষ্পপাড়া বাজারে রিপন হোসেন ও আব্দুস সালাম নামের দুজনকে গুলি করে হত্যার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ঢাকা-পাবনা মহাসড়কসংলগ্ন পুষ্পপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিপন হোসেন আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রাম এলাকার মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। আব্দুস সালাম একই এলাকার মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ছিলেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একের পর এক হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক বিরাজ করছে পুষ্পপাড়া বাজার এলাকায়। ২০১৪ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় এই বাজারেই প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। প্রায় এক যুগ পর একই বাজারে আবারও এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চরমপন্থীদের তৎপরতার জন্য পরিচিত আতাইকুলার বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও বহু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

নিহত আব্দুস সালামের ভাই আব্দুল কালাম বলেন, ‘আমার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ২০১৪ সালের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আমাদের পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় আমি জেলে ছিলাম, তারপরও আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। এই এলাকায় আমাদের কারণে অপরাধীরা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ করতে পারে না। এ কারণেই তারা আমাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে।’

এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার দুপুরে নিহত দুজনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফ বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। আতাইকুলা অঞ্চল আগে থেকেই চরমপন্থী তৎপরতাসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য পরিচিত। তবে আগের তুলনায় এ অঞ্চলে অপরাধ কমেছে। পাবনায় যোগ দেওয়ার পর গত তিন মাসে এই প্রথম এ ধরনের ঘটনা ঘটল। আশা করছি, দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’