গাইবান্ধায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতার ওমর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে হামলার ঘটনায় জড়িত সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার জেলা শহরে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে শহরের স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী কুটির শিল্পপণ্য মেলার শেষদিনে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাইবান্ধা জেলার যুগ্ম-আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম আকাশ, মেহেদী হাসান ও যুগ্ম-সদস্যসচিব শেফাউর রহমান শিপন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা জানান, মেলার ভেতরে হঠাৎ করে একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করাসহ ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনজন আহত হন।
আহত মেহেদী হাসান জানান, যুগ্ম-সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান তাঁর পরিবার নিয়ে মেলায় যান। এ সময় মেলার এক দোকানের কর্মচারী আসাদুজ্জামানকে হেনস্তা করে। বিষয়টি জানতে পেরে তারা কয়েকজন মেলায় যান। সেসময় দোকান মালিকের সাথে কথা বলে ওই কর্মচারীকে মেলা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে মেলা থেকে তারা বের হওয়ার সময় চুরির অভিযোগে অপরিচিত দুই নারীকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখেন। মারধর করতে বাঁধা দিলে তারা ধারালো অস্ত্র হাতে তাদের ওপর হামলা করে। এতে আকাশ, মেহেদী ও শিপন আহত হন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাইবান্ধা জেলা শাখার সদস্যসচিব বায়োজিদ বোস্তামী জিম জানান, তাঁদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। প্রথমে ধারালো ছুরি দিয়ে তারা আসাদুজ্জামান ও মেহেদীকে আঘাতের চেষ্টা করে। এসময় মেহেদীকে বাঁচাতে গেলে আকাশের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ও সুবিধাবাদি ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গাইবান্ধা সদর থানায় অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এছাড়া তাৎক্ষণিক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করাসহ দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ আল হাসান ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সদর হাসপাতালে যান। এসময় তারা আহতদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে ইউএনও মো. মাহমুদ আল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, হামলার ঘটনাটি তদন্তে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন। দ্রুতই জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পৌর পার্কের বিজয় স্তম্ভ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে গিয়ে মিলিত হন বিক্ষোভকারীরা। পরে সেখানে তারা এক সমাবেশে তারা জানান, সকল আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে কঠোর কর্মসূচীতে যাবেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর তালুকদার জানান, এ ঘটনায় থানায় ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।