নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে আগাম জাতের আলুর বাম্পার ফলন। সেখানে মাঠজুড়ে এখন চলছে আলু তোলার মহোৎসব।
আলুচাষীদের আশা, এই বাম্পার ফলন, গত বছরের লোকসান পুষিয়ে দিতে পারবে।
জমি থেকে আলু তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ভালো ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
রবি মৌসুমে স্বাভাবিক সময়ের আগে চাষ করা এই আগাম আলুর ভালো ফলন হলে কৃষকরা ভালো বাজারমূল্য পেয়ে থাকেন।
আশ্বিনের বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে ৫৫ থেকে ৬০ দিন মেয়াদী ‘সেভেন’ জাতের আগাম আলু চাষ করেছিলেন প্রান্তিক চাষিরা। সেই ঝুঁকি নেয়াতেই এখন সাফল্যের মুখ দেখছেন তারা। পুরোনো আলুর বাজারদর কম থাকায় এখন আগাম আলুতেই ভরসা কৃষকদের।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘আগাম আলুতে সুবিধা হচ্ছে, দাম বেশি পাই।। কিন্তু জমিটাতে আগাম অন্য কোনো ফসল হয় না।’
আরেক কৃষক বলেন, ‘এবার আমরা যেটা আগাম আলু লাগাইছি কিছুটা হলেও লাভ আসছে।’
ক্ষেত থেকেই বিক্রি হচ্ছে আগাম আলু। প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা ট্রাকভরে আলু কিনে পাঠিয়ে দিচ্ছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালের বিভিন্ন মোকামে।
এক আলু ক্রেতা বলেন, ‘নতুন আলুতে মানুষের আগ্রহ বেশি। কারণ নতুন জিনিস খেতেও ভালো লাগে।’
একজন কৃষক বলেন, ‘বাজার খুব কম। আজেক ২৬ থেকে ৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে চাষিরা। আর ব্যাপারিরা এখান থেকে কিনে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে।’
আগাম আলুতে কৃষকরা এবার তুলনামূলক ভালো দাম পাবেন এবং গত বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, ‘এবার আবাহওয়া অত্যন্ত ভালো থাকায় এবং কৃষি বিভাগ সময়পোযগী ও কার্যকরী পরামর্শ প্রদান করায় মাঠের পরিস্থিতি খুবই ভালো। আমরা আশা করছি আলুর ফলন গত বছরের তুলনায় এবছর অনেক বেশি বাড়বে।’
এবারে পুরো নীলফামারী জেলায় আগাম আলুর চাষ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু কিশোরগঞ্জ উপজেলাতেই হয়েছে ৬ হাজার ৬৬০ হেক্টর এলাকায়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১শ টন।