তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চলের জমি স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ২৭টি চরে এখন বিস্তীর্ণ বালুচরজুড়ে সবুজের সমারোহ। সেখানে গম, ভুট্টা, আলুসহ অন্তত ১০ ধরনের ফসলের আবাদ হচ্ছে। ভালো ফলনে খুশি কৃষকরা। কৃষি বিভাগের আশা, চলতি মৌসুমে এসব চরাঞ্চল থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ফসল উৎপাদিত হবে।
একসময় অথৈ জলে ভরা তিস্তার বুকজুড়ে এখন বিস্তীর্ণ বালুচর। মাইলের পর মাইল জেগে ওঠা ধূ-ধূ বালুচর এখন যেন সবুজ গালিচায় পরিণত হয়েছে।
তিস্তাবেষ্টিত ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার চরগুলোতে কৃষকদের নতুন স্বপ্ন ও আশার সঞ্চার হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে গম, ভুট্টা, আলু, সরিষা, পেঁয়াজ ও তরমুজসহ বিভিন্ন রবিশস্যের আবাদ করছেন চাষিরা।
বছরের প্রায় ছয় মাস এসব চর পানির নিচে থাকলেও বাকি সময়টুকু কয়েক লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন হয়ে ওঠে। তবে সেচ সংকট এবং ফসল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিস্তা পাড়ের কৃষির সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা। কৃষকদের টিকে থাকার এই লড়াইয়ে পাশে রয়েছে কৃষি বিভাগ। প্রণোদনার আওতায় দুর্গম চরাঞ্চলে বিনামূল্যে সার, বীজ ও আধুনিক সেচ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে।
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, “চরাঞ্চলে কৃষি সম্প্রসারণে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদনও ভালো হচ্ছে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, চরাঞ্চলে সবুজের বিস্তার আশার বার্তা দিলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন জরুরি।