সৈয়দপুরে পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন নিয়ে দুই এমপির বাকবিতণ্ডা

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শহরজুড়েও আলোচনা শুরু হয়।

জানা যায়, পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনের সময় নামফলকে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমের নাম দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিদর্শন কক্ষে বসেই প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলে।

এ সময় বিলকিস ইসলাম প্রশ্ন করেন, ‘এখানে আমাকে কেন প্রধান অতিথি করা হয়নি? আর নামফলকে কেন শুধু একজনের নাম লেখা হয়েছে? এই পরিদর্শন কক্ষ কি শুধু আব্দুল মুনতাকিমের?’

জবাবে সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম বলেন, ‘এটি ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের জন্য। এখানে সবাই আসবেন, কাজ করবেন। তবে এলাকাটি যেহেতু আমার নির্বাচনী এলাকা, তাই নামফলকে আমার নাম থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী এলাকা নেই। তাই তাদের জন্য পরিদর্শন কক্ষও নির্দিষ্ট নয়। এ কারণে দলবল নিয়ে এসে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অধিকার দাবি করলে তা সংশ্লিষ্ট পরিপত্র অনুযায়ী হতে হবে। এ বিষয়ে আপনার কোনো নথি আছে কি না?’

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিলকিস ইসলাম হট্টগোল শুরু করেন। তিনি বিষয়টি দেখে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘আমার দল সহজ-সরল হলেও আমি নই। কোনো ক্ষেত্রেই ছাড় দেব না। বিষয়টি সংসদেও তুলব এবং আমার অধিকার আদায় করে নেব। সারাদেশে কোথায় কীভাবে কী করা হয়েছে, তা জানতে চাই না। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের পরিদর্শন কক্ষে আমার স্থান দিতে হবে।’

ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ও এম এ পারভেজ লিটন এবং সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ মাজহারুল ইসলাম।

এ ছাড়া দুই পক্ষের নেতাকর্মী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সুধীজন ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বাকবিতণ্ডা চলায় পরিদর্শন কক্ষের সামনে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে। এতে উদ্বোধনী আয়োজনের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হয়। পরে মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির অবসান হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের অনেকে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন হয়নি, সাধারণ মানুষের কাছেও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে নেতিবাচক বার্তা গেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।