জয়পুরহাটে যৌতুকের দাবিতে সাবেকুন নাহার নামে এক গৃহবধূর গায়ে গরম পানি বা দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় গত পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতেই এই ঘটনা ঘটেছে।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাদোয়া কয়রাপাড়া গ্রামের দরিদ্র মোশাররফ হোসেনের মেয়ে সাবেকুন নাহার। গত প্রায় ২ বছর আগে তার বিয়ে হয় পাঁচবিবি উপজেলার খাসবাট্টা তৈফিকপাড়া গ্রামের আলেফ উদ্দীনের ছেলে সাজু মিয়ার সঙ্গে। তাদের ঘরে সাড়ে ৩ মাস বয়সী ছেলে সন্তান আছে।
সাবেকুন বলেন, ‘বিয়ের সময় সাজু আড়াই লাখ টাকা টাকা নিয়েছিল, এখন আরও টাকা চায়। আমার বাবা গরিব, আর টাকা দিতে পারবে না। তাই রাতে গরম কি যেন ছিটিয়ে দিল। জ্বালা যন্ত্রণা করছে।’
একই অভিযোগ করে সাবেকুনের বাবা মোশাররফ জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাবেকুনের গায়ে স্বামী ও শ্বশুর গরম পানি অথবা দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করলে তার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এসে তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। মেয়ে একটু সুস্থ হলে মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।
গরম পানি নাকি অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুর্শিদা পারভীন জলি জানান, সাবেকুনের ওপর গরম পানি, নাকি এসিড ছোঁড়া হয়েছে তা নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে, তবে তা দাহ্য বা প্রদাহকারী। চিকিৎসা চলছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক যোগাযোগ করেও সাবেকুনের স্বামী, শ্বশুরের দেখা না মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ঘটনার পর ৫ দিন গড়িয়ে গেলেও মামলা করেনি ভুক্তভাগীর পরিবার। তবে মামলা হলে পুলিশ আইনানুগ নেবে বলে জানান, পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ তামবিরুল ইসলাম।