প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ এলাকা সুনামগঞ্জে প্রতিবছরই বন্যার কবলে পরতে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। এতে নিঃস্ব হচ্ছে হতদরিদ্র পরিবারগুলো। পাহাড়ি ঢল আর ঢেউয়ের আঘাতে হাওর এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হচ্ছে। চলতি বন্যায়ও হাওরাঞ্চলে কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বানবাসীরা ভুগছে খাদ্য সংকটে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওর পাড়ের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা বিলকিস বেগম। স্বামী শাহ আলম ও তাঁর দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন সরকারি খাস জায়গায়। ২০২২ সালের প্রলয়ংকারী বন্যায় বিলকিস বেগমের কাঁচা ঘরটি বিধ্বস্ত হয়। বন্যা নেমে যাওয়ার পর সরকারি কোনো সাহায্য না পেয়ে নিজে অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং স্বামী শাহ আলম ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে কোনোরকম ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি মেরামত করে। তবুও পুরোপুরি মেরামত করতে পারেননি। এর মধ্যেই চলতি মাসে পাহাড়ি ঢল ও ঢেউয়ের আঘাতে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তাঁর ঘরটি। বসবাসের প্রায় অনুপযোগী হয়ে গেছে। ঘর থেকে পানি নেমেছে এর মধ্যেই ভেসে উঠেছে বন্যার ক্ষত চিহ্ন।
বিলকিস বেগম স্বামী সন্তান নিয়ে বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। ঘর থেকে পানি নামলেও ঘরে যাওয়ায় মতো আর পরিস্থিতি নেই। এখন কী করবেন কোথায় যাবেন সেই চিন্তায় রাত–দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
বিলকিস বেগম ছাড়াও একই গ্রামের ৫০টি পরিবার একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো একদিকে যেমন বসতভিটা হারিয়েছে। তাদের দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেও সরকারিভাবে পাচ্ছে না খাদ্য সহায়তা।
পৌর শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা বনসা দাস বলেন, ‘নদীতে পানি কমলে কী হবে আমাদের বাড়িঘরে এখনও পানি। পানির জন্য ঠিকমতো খাওয়া–দাওয়া নেই, ঘুম নেই। ছোট বাচ্চাটা বন্যার পানিতে নেমে অসুস্থ হয়ে গেছে। যেহেতু বৃষ্টি কমে গেছে ভেবেছিলাম পানি কমবে। কিন্তু পানি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।
চলতি বন্যায় জেলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো পানি না কমায় নিরূপন করতে পারেনি প্রশাসন। এখনো ৫৪২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯ হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে প্রায় ৭ লাখ মানুষ।’
এদিকে, পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলা তলিয়ে সৃষ্টি হয় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। আবার কোথাও অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে এখনো সুরমা নদীর ৩টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
খাদ্য সহায়তার বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার শুক্রবার দুপুরে আবু আহমদ ছিদ্দীকী সুনামগঞ্জ বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনো বেশিরভাগ জায়গায় পানি রয়েছে। তাই ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করা যায়নি। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে। তবে খাদ্য সংকট নেই।’