ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে ২০১৯ সালে মৌলভীবাজারে গড়ে তোলা হয় শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরী। তবে সাত বছরেও সেখানে শুরু হয়নি উৎপাদন। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শিল্পনগরী এখন প্রায় পরিত্যক্ত। এরই মধ্যে চুরি হয়ে গেছে কোটি টাকার সরকারি মালামাল। নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনায় কারখানা স্থাপনে আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
শ্রীমঙ্গলের কাছেই উত্তরসুরে ২০ একর জমির ওপর নির্মাণ হয় শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরী। ২০১২ সালে ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হলেও ২০১৬ সালে শুরু হয় নির্মাণকাজ। ২০১৯ সালে শেষ হয় অবকাঠামো নির্মাণ। তবে এখনও চালু হয়নি অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শিল্পনগরী।
স্থানীয়রা জানান, উৎপাদন কার্যক্রম না থাকায় প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে শিল্পনগরীটি। চুরি হয়ে গেছে সাতটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার, বৈদ্যুতিক লাইন, পানি সরবরাহের দুটি বড় পাম্পসহ কোটি টাকার মালামাল। তাঁরা আরও বলেন, এখানে চোরের উপদ্রব অনেক বেশি।
মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসান আহমেদ জাবেদ জানান, নিরাপত্তার অভাব, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, জমির উচ্চ মূল্য, মাটি ভরাটসহ নানা সংকটে কারখানা স্থাপন করা যায়নি।
বিসিক কর্মকর্তাদের দাবি, দ্রুত উৎপাদন শুরু করতে উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরীর প্রমোশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুনায়েম ওয়ায়েছ বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আমরা যেটা করতে পারি সেটা হলো–কারখানা স্থাপনে আমরা দাপ্তরিকভাবে উৎসাহ বা তাগাদা দিতে পারি।’
শ্রীমঙ্গল শিল্পনগরীতে ১২২ প্লটের মধ্যে ৬২টি প্লট ১১টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দিয়েছে বিসিক। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানই পেয়েছে ৪০টি। বাকি ২২ প্লট পেয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠান।