অবাধে হিজল ও করচ বাগান উজাড় হওয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রামসার সাইট হিসেবে পরিচিত এই হাওরের রক্ষাকর্তা গাছগুলো ক্রমেই নিঃশেষ হওয়ার পেছনে প্রশাসনের উদাসীনতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দায়ী, বলছেন স্থানীয়রা। এদিকে নির্বিচারে গাছ কাটায় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে হাওরের জীববৈচিত্র্য।
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের আধার সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। জলজ উদ্ভিদ, মাছ আর পাখির অভয়ারণ্য এই হাওরের অপরূপ জলরাশির চারদিকে রয়েছে হিজল-করচসহ নানা রকম গাছের বাগান। যা এই হাওরের রক্ষাকর্তা হিসেবে বিদিত।
তবে দিনে দিনে উজাড় হচ্ছে এই হাওরের প্রাকৃতিক বন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জলমহালের জন্য মাছের আবাসস্থল তৈরি ও জ্বালানির জন্য একটি চক্র কেটে নিয়ে যাচ্ছে হিজল-করচ গাছের ডাল পালা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য। নষ্ট হচ্ছে পাখি, মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হাওর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এবং প্রশাসনের তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম বলেন, ‘আগের তুলনায় হাওরের গাছ ও মাছ দুটোই কমে গেছে। এত বড় হাওর পাহারার জন্য মাত্র তিনটি ক্যাম্প রয়েছে। যথাযথ তদারকি না হলে গাছ ও মাছের সংখ্যা আরও কমে যাবে।’
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএস কো-অর্ডিনেটর সাইফুল চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে রোপণ করা অনেক হিজল-করচ গাছ এখন ঝুঁকির মুখে। কেউ জ্বালানির জন্য, আবার কেউ মাছের আশ্রয়স্থল তৈরির নামে গাছ কাটছে। এ প্রবণতা কঠোরভাবে দমন না করলে টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।’
গাছগুলো রক্ষায় জন্য ও কি অবস্থায় আছে তা দেখার জন্য রেঞ্জ অফিসারকে পাঠাব। দেখে প্রয়োজনীয় কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তিনি হাওরে আগত পর্যটক ও তাদের পরিবহনকারী হাউসবোড ও নৌকাগুলোকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে টাঙ্গুয়ার হাওরে গাছ কাটা ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘টাংগুয়ার হাওরে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। এ বিষয় খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
হাওরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গাছ কাটায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।