সুনামগঞ্জে নৌকাডুবিতে মৃত্যু বেড়ে ৪

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে হাওরে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হওয়া চারজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। আজ রোববার সকালে উপজেলার মইয়ার হাওরের রোয়ারকারা নামক স্থানে দুজনের ভাসমান মরদেহ পাওয়া যায়। আগেরদিন পাওয়া যায় দুই মরদেহ।

নিহতরা হলেন–জগন্নাথপুর পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার মৃত জগিন্দ্র দেবনাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেব নাথ (৩৭) ও একই এলাকার মৃত অনিল দেব নাথের ছেলে অধীর দেবনাথ (৩৫)। এরআগে শনিবার একই এলাকার মৃত সুবল দেব নাথের ছেলে সত্যেন্দ্র নাথ সতী (৬৫) ও মৃত অনিল দেব নাথের ছেলে অরুণ দেবনাথের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিদল।

নৌকা ডুবিতে বেঁচে ফেরা গ্রামের নিশি দেবনাথ বলেন, কীর্তন দেখে রাত ৩টার দিকে আমিসহ গ্রামের ৯ জন বাড়ি ফিরছিলাম। মাঝ হাওরে আসার পর হঠাৎ দমকা হাওয়ায় নৌকা ডুবে যায়। আমি নৌকার পেছনে থাকায় আগেই নদীতে পড়ে গেছিলাম। হাওরে কোনো ঠাঁই নাই। অনেক সময় সাঁতার কাটছি। শরীর ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। আমি বাঁচার আসা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমি শ্বাস পারছিলাম না। একটা মাছ ধরার নৌকা এসে আমিসহ ৫জনকে উদ্ধার করে। বাকি ৪ জন পানিতে ডুবে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতদের পরিবারের কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। 

গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পূর্ব ভবানীপুর এলাকার ৯জন নৌকায় পার্শ্ববর্তী ভরাউট এলাকায় হিন্দু ধর্মীয় এক অনুষ্ঠানে যান। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফেরার পথে মইয়ার হাওরের বালুচর নামক স্থানে নৌকাটি ডুবে যায়৷

নৌকায় থাকা ৯ জনের মধ্যে ৫ জন সাঁতার কেটে তীর উঠলেও এ ঘটনায় ৪ জন নিখোঁজ হন।  শনিবার দিনব্যাপি সুনামগঞ্জ ও সিলেট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ডুবুরিদল যৌথভাবে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে।