বিদেশযাত্রায় প্রতারণা: সিলেটে সক্রিয় অসংখ্য ভুয়া এজেন্সি 

প্রবাসে ভাগ্য বদলের স্বপ্নকে পুঁজি করে সিলেটে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে হাজারের বেশি ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র। টাকা নিয়ে ভিসার ব্যবস্থা না করা বা অফিস গুটিয়ে পালানো এবং ভুয়া ভিসার মতো ঘটনা ঘটছে প্রায়শই। প্রতারিত হলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ আইনজীবীদের। অভিযোগ পেলে ভুয়া এজেন্সি ও দালালের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, জানিয়েছে প্রশাসন।

ভাইসহ পরিচিত ৪ জনকে বিদেশে পাঠাতে ‘ট্রাভেল জোন’ নামের এক প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেন সিলেটের বাসিন্দা চৌধুরী মুশফিক মুনিম। কিছুদিন পর জানানো হয়, সবার ভিসা হয়েছে। তবে কাগজপত্র যাছাইয়ে ধরা পড়ে ভিসাগুলো ভুয়া। এদিকে ৭৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতারণার অভিযোগে ট্রাভেল জোনের মালিক নুরুল মুজতবা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন মুশফিক। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার বাদী চৌধুরী মুশফিক মুনিম বলেন, ‘বিদেশে পাঠানোর কথা বলে আমাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পরে দেখি কাগজপত্র সব ভুয়া।’

বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি অ্যামেক্স নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

আইনজীবী সামশুল আবেদীন বলেন, ‘সিলেটে বৈধ এজেন্সির সংখ্যা ২০০ হলেও অবৈধ এজেন্সি আছে আরও ১ হাজার। টাকা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন যাচাই এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।’

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর তথ্য বলছে, প্রতি বছর সিলেটের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান।