সুনামগঞ্জে মেয়েদের প্রীতি ফুটবল খেলায় বাধার অভিযোগ, স্থগিত ম্যাচ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে মেয়েদের দুটি দলের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে স্থানীয় একটি পক্ষের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে নির্ধারিত খেলাটি স্থগিত করেছেন আয়োজকেরা।

আয়োজকেরা জানান, দিরাইয়ের স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের নারী ফুটবল দলের মধ্যে সোমবার বিকেলে প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে আগে থেকেই দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছিল। তবে রোববার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে খেলা বন্ধের দাবি জানান বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আয়োজক রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘রোববার রাতে জানতে পারি, কয়েকজন ব্যক্তি ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে খেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। পরে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, যেহেতু দুই পক্ষই দিরাইয়ের বাসিন্দা, তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলা আয়োজন করতে হবে। তা না হলে খেলা স্থগিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পুলিশের পক্ষ থেকেও খেলা স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই বাধ্য হয়ে খেলা স্থগিত করেছি।’

রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া জানান, স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে। স্থানীয় কিশোরীদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই দলটি এর আগে দেশের বিভিন্ন জেলার নারী ফুটবল দলের সঙ্গে খেলেছে। ২০১৯ সালে স্বপ্নচূড়ার আমন্ত্রণে সাতটি জেলার নারী ফুটবল দল দিরাইয়ে এসে খেলায় অংশ নেয়। এ ছাড়া স্বপ্নচূড়ার খেলোয়াড়েরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খেলেছে এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছে। দলটিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। হঠাৎ করে খেলায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এদিকে, খেলা বন্ধের দাবি জানানোদের একজন দিরাই পৌর এলাকার চণ্ডীপুরের বাসিন্দা মাওলানা মো. শরিফ উদ্দিন। তার দাবি, তারা মেয়েদের খেলাধুলার বিরোধী নন। তবে অন্য এলাকার নারীরা এসে দিরাইয়ে খেলবে এবং মাঠে ‘নাচানাচি’ হবে—এতে তাদের আপত্তি রয়েছে।

রোববার রাতে মাওলানা শরিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন ইউএনও সনজীব সরকারের সঙ্গে দেখা করে খেলার নামে ‘অশ্লীলতা’ বন্ধের দাবি জানান। পরে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে শরিফ উদ্দিন বলেন, দিরাইয়ে কোনো ‘ইসলামবিরোধী’ কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ‘ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র পক্ষ থেকে তারা ইউএনওর সঙ্গে দেখা করে দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান।

সোমবার সকালে তারা আবারও ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে খেলা বন্ধের দাবি জানান।

মাওলানা মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আগে শুনেছিলাম কিশোরীরা ফুটবল খেলবে। এখন মাইকিং করা হচ্ছে নারীদের ফুটবল খেলার কথা। নারীদের নিয়ে মাঠে নাচানাচি ও অশ্লীলতা হবে—এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। মেয়েরা খেলবে আর পুরুষেরা দেখবে, এটিও ঠিক নয়। আমরা খেলাধুলার বিরোধী নই, আমরা অশ্লীলতার বিরোধী। মূলত এ কারণেই বাধা দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, ‘আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এটি তাদের ক্লাবের খেলা। যেহেতু দুই পক্ষই দিরাইয়ের বাসিন্দা, তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলা আয়োজন করতে বলেছিলাম। এখন আয়োজকেরা জানিয়েছেন, তারা নিজেরাই খেলাটি স্থগিত করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি।’