মৌলভীবাজারে জঙ্গি সন্দেহে ১৭ জনকে আটকিয়ে রেখেছেন স্থানীয়রা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসার সময় জঙ্গি সন্দেহে আরও ১৭ জনকে আটকিয়ে রেখেছে স্থানীয়রা। তারা সবাই 'ইমাম মাহমুদের কাফেলা'র সদস্য বলে ধারণা স্থানীয়দের। 

সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ১৩ নং কর্মধা ইউনিয়নের আসকরাবাদ চা বাগান এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একটি রুমে আটকিয়ে রাখেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। 

কর্মধা ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুল ইসলাম আজাদ বলেন, যারা আটক হয়েছেন তারা পূর্ব টাট্টিউলি গ্রামের জঙ্গি আস্তানার পাশে গভীর পাহাড়ে অভিযানের দিন থেকে অবস্থান করছিল বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। রোববার দুপুরের দিকে তারা কালা পাহাড় থেকে নেমে আসতে থাকেন। সোমবার সকালে পাহাড়ের নিচে আছকরাবাদ চা বাগানের গেইটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে এলে অটোরিকশা চালকদের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়।

সিএনজি অটো চালক লকুস মিয়া বলেন, পাহাড় থেকে প্রথমে ৪জন লোক নেমে এসে তার গাড়ি ভাড়া করে শহরে যেতে চায়। সে সময় একজন অসুস্থ লোক হাসপাতালে নিতে হবে বলে তারা জানায়৷ অসুস্থ লোকটি দেখে তিনি তাদের গাড়িতে তুলে শহরের দিকে ছুঠে যান। পরে অন্য চালক ফোনে তাকে জানায় গাড়িতে সকল যাত্রী জঙ্গি সদস্য, তাই তাদের ফিরিয়ে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হবে। 

আরেক অটোচালক রব উল্লাহ জানান, প্রথমে পাহাড় থেকে ৪জন লোক নেমে এসে একটি সিএনজিযোগে যাত্রা করার পর। আরও ১৩ জন লোক পাহাড় থেকে ধাপেধাপে নেমে এসে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করতে থাকে৷ এতো লোক একসাথে নেমে আসছে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়৷ পরে আমরা ইউপি মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে খবর দেই৷ 

ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য দরছ মিয়া বলেন, তাদেরকে আমরা প্রাথমিকভাবে নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের বসবাস। এদের মধ্যে বেশিরভাগের বয়স ২২-৩৫ বছর। আটকদের মধ্যে  ইমাম মাহমুদ নামের একজন ও ডাক্তার সোহেল তানজিম রয়েছেন৷ 

কুলাউড়া থানার ওসি আব্দুস ছালেক বলেন, ‘ঢাকা থেকে সিটিটিসির একটি টিম আসছে। তারা আসার পর প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

গত শনিবার কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি পূর্ব টাট্টিউলি এলাকায় টিলার ওপর অবস্থিত একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠন ইমাম মাহমুদ কাফেলার ছয় নারী ও চার পুরুষ সদস্যকে আটক করে ঢাকার সিটিটিসি ইউনিট ও জেলা পুলিশ। তাদের সঙ্গে তিন শিশুও ছিল। এরপর থেকে পুরো এলাকাটি পুলিশের নজরদারিতে ছিলো।