মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে, অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধার করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থপাচার ঠেকানো, ঋণ অনিয়ম বন্ধসহ অন্তত সাত ক্ষেত্রে কঠোর হতে হবে নতুন সরকারকে। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে গেলেও বাস্তবায়ন করতে হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।
২০১৮ সালে চতুর্থ বারের মতো আওয়ামী লীগ যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তখন মোট দেশজ উৎপাদন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় আট শতাংশ। যা গত বছর নেমে আসে ছয় শতাংশে। এই সময়ে জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তেজ হারিয়েছে নিম্নমুখী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। রাজস্ব আয়ের বৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্য নয়। অনুকূলে আসেনি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও। যদিও এই সময়ে মাথাপিছু আয়, দারিদ্র্যসহ কিছু সূচকে উন্নতি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পঞ্চম বার ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতির হারানো গতি পুনরুদ্ধারে অর্থপাচার ঠেকানো, ব্যাংক ঋণে অনিয়ম বন্ধ করা, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও কর ফাঁকি বন্ধ করতে হবে। জোর দিতে হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায়।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, সরকারকে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে যেসব পদক্ষেপ প্রয়োজন তা গ্রহণ করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে করতে হবে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ব্যবসা বাড়াতে অনিয়মে জিরো টলারেন্স, সাশ্রয়ী হওয়া এই বিষয়গুলো শুধু বললেই হবে না। বাস্তবায়নও করতে হবে।
অর্থনীতির গতি ধীর হলেও, গত পাঁচ বছরে অবকাঠামো উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো ছিল। সরকারের অনেক নীতিনির্ধারক মনে করছেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফেরাতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, যেহেতু এ সরকার দেশ পরিচালনায়, অর্থনীতি ব্যবস্থায় ও রাজনীতিতে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সেহেতু এ সরকারের পক্ষে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সহজ হবে।
আগামীর দিনগুলোতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণসহ নানা চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে অর্থনীতির জন্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, সামষ্টিক অর্থনীতি সবল হলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।