ওয়াইজ ঘাটে পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ 

রাজধানীর ওয়াইজ ঘাটে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে পিস হিসেবে। সেই তরমুজ কারওয়ান বাজারসহ সব জায়গায় বিক্রি হচ্ছে কেজি হিসেবে। অথচ এটি বেআইনি। এ ছাড়া ওয়াইজ ঘাটে পাঁচ থেকে থেকে সাত কেজির একটি তরমুজের দাম পড়ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। সেটি খুচরা ক্রেতাকে কেজি দরে কিনতে হচ্ছে চার থেকে পাঁচ শ টাকায়। এটি দৃশ্যমান হলেও কোনো অভিযানে প্রভাব পড়েনি।

ঢাকায় সব তরমুজ আসে বিভিন্ন জেলা থেকে। সবচেয়ে বড় তরমুজের আড়ত রাজধানীর ওয়াইজঘাটে। সেখান থেকে কারওয়ান বাজারের পাইকাররা তরমুজ কেনেন। খুচরা বিক্রেতারা তাদের কাছ থেকে কিনে বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কাছে।

ওয়াইজ ঘাটে ১০০ পিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ একটির দাম পড়ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। যেগুলোর একেকটির ওজন পাঁচ থেকে সাত কেজি।

সদরঘাটের এক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, ২৮ হাজার টাকায় ১০০ পিস তরমুজ বিক্রি করলে লেবার খরচসহ এক পিস তরমুজের দাম পড়ে ৩০৮ টাকা।

আরেক ব্যবসায়ী বলছেন, কারওয়ান বাজারে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী আড়তদার সেজে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

‌ওয়াইজ ঘাট থেকে পিস হিসেবে কেনা তরমুজ কারওয়ান বাজারে কেজি দরে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে। এতে সাত কেজির একটি তরমুজের দাম পড়ছে ৫০০ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছে, আড়তদারদের কাছ থেকে ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছাতে বহন খরচ বেশি বলে, দাম বাড়তি।

তবে খুচরা বিক্রেতারা পাইকার ও আড়তদারদের দায়ী করলেও বাজার ঘুরে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ক্রেতারা দোষ দিচ্ছে দুর্বল তদারকিকে। খেত থেকে তরমুজ সাধারণ মানুষের হাতে আসতে কয় হাত ঘুরছে তা জানাই রয়েছে। সব স্তরে নজরদারি বাড়ালেই দাম কমে আসবে বলে মনে করেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজার তদারকি ঠিকমতো হচ্ছে না বলে আগে যে দামে তরমুজ কেনা গেছে, এখন তার দাম দ্বিগুণ।

এ পরিস্থিতিতে তরমুজ না খেয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে নগরবাসী। আর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এখনও আশ্বাস দিচ্ছে দাম নিয়ন্ত্রণের।

সংস্থাটির মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান জানান, পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বিক্রেতারা শ বা পিস হিসেবে তরমুজ কিনে ক্রেতাদের কাছে ঠিক এভাবেই বিক্রি করতে হবে। জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।