‘বাড়ছে ভর্তুকি বরাদ্দ, বেশি যাচ্ছে ধনীদের পকেটেই’

প্রণোদনা ও ভর্তুকি খাতে আসন্ন বাজেটে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়াচ্ছে সরকার। রাখা হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার বলছেন, অর্থনীতি গতিশীল রাখতেই সরকারের এমন সিদ্ধান্ত। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রণোদনা ও ভর্তুকির অর্থ ধনীদের পকেটেই বেশি যাচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে যা বেড়ে হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা।

সর্বোচ্চ ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি থাকছে বিদ্যুৎ খাতে। এলএনজিতে থাকছে ৭ হাজার কোটি টাকা। কৃষিতে ভর্তুকি না বাড়লেও সামনের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের রেশনের খাদ্যে ভর্তুকি বেড়ে হচ্ছে ৭ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। ভর্তুকি মূল্যে টিসিবি ও ওএমএসের নিত্যপণ্য বিক্রিতে বরাদ্দ থাকছে ১৯ হাজার কোটি টাকা। 

ঋণদাতা সংস্থা আইএমএফের পরামর্শ পাশ কাটিয়েই বাড়ানো হচ্ছে ভর্তুকি। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘ভর্তুকি ও প্রণোদনা অর্থনীতিকে চাঙা রাখার জন্যই করা হয়। আইএমএফ প্রত্যেকটা দেশে এক অবস্থানে যে দেখে তা কিন্তু নয়। তারা তাদের মতো দেখে। আর আমাদের দেখতে হয় আরেকভাবে। তাদের সব কথাই আমরা মেনে নিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে সচল রাখতে পারব না।’ 

রপ্তানি খাতে প্রণোদনা ৮ হাজার কোটি থেকে কমে হচ্ছে ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। এলডিসি উত্তরণকে মাথায় রেখে রপ্তানিতে প্রণোদনা কমানোর পক্ষে অর্থনীতিবিদরা। 

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদ্যুতে ভর্তুকির সুবিধা পাচ্ছে উৎপাদকরা। এ ব্যাপারে অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘এই ক্যাপাসিটি পেমেন্টের নামে যে সাবসিডি গেছে, তাতে ধনী আরও ধনী হয়েছেঅ। কিন্তু সাধারণ মানুষ, বিদ্যুতের গ্রাহকের ওপর কিন্তু সাবসিডির বোঝা এসে পড়েছে। তাহলে জনগণের লেভেলে না কমিয়ে যেখানে কমানো উচিত সেখানে পর্যালোচনা করে কমানো যেতে পারে। যেমন ক্যাপাসিটি পেমেন্টের মতো জায়গা।’ 

এদিকে, আসছে বাজেটে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, এনজিও, গবেষণা সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ভর্তুকি থাকছে ১২ হাজার কোটি টাকা।