বিদ্যুতের বকেয়া পরিশোধের সময় বেঁধে দিয়ে আদানির চিঠি

বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধে বাংলাদেশকে নতুন করে সময় বেঁধে দিয়েছে ভারতীয় আদানি গ্রুপ। আগামী জুনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের জন্য গেল রোববার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবিকে চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চিঠি আরো বলা হয়, গত ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত পিডিবির কাছে আদানির পাওনার পরিমাণ ১০ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। এদিকে, বাংলাদেশে দিনে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে এ কেন্দ্রটি। 

টাকা পাওনা নিয়ে গত বছরের আগস্টের পর থেকে আদানির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের টানাপোড়েন চলছে। পরে অক্টোবরে বকেয়া শোধে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকিও দেয় আদানি। নভেম্বরে একটি ইউনিটের উৎপাদন আদানি বন্ধও রাখে। পরে আংশিক বকেয়া পরিশোধ করে বাংলাদেশ। ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্র ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিক্রির পাওনা টাকা চেয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি লিখেন ভারতের আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি।

মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা চিঠিতে গৌতম আদানি বলেন, ‘আমরা যখন বাংলাদেশকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বজায় রাখছি, সেই সময়ে ঋণদাতারা আমাদের ওপর কঠোর হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে থেকে আমরা যে ৮০ কোটি ডলার পাই, সেই অর্থ দ্রুত পরিশোধ করার জন্য হস্তক্ষেপ করতে আপনাকে অনুরোধ করছি।’

গৌতম আদানি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ যে পাওনা হয়, তা নিয়মিত ভিত্তিতে পরিশোধ করার জন্যও আমি অনুরোধ করছি।’

বাংলাদেশে আট থেকে নয় মাস ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবদ আদানির ৮০ কোটি ডলার পাওনা হয়েছে বলে এর আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ঝাড়খান্ডের গড্ডায় অবস্থিত ১৬০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আদানি গ্রুপ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। একটি নির্দিষ্ট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে গত জুন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

চিঠিতে গৌতম আদানি বলেন, ‘একটি আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় সঞ্চালনব্যবস্থা তৈরি করতে আদানি পাওয়ার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। আপনার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতি আমি আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করছি।’