প্রস্তাবিত বাজেটের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়। এমনকি বৈষম্যমূলক করকাঠামোতে চাপে পড়বে সাধারণ মানুষ, সুবিধা পাবে ধনীরা। আজ বুধবার এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম আয়োজিত মতবিনিময়ে এমন মত উঠে আসে। অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাজেটকে ভুলভ্রান্তির, সাম্যবিরোধী এবং সংস্কারবিমুখ হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
আগামী ২২ জুন পাস হবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট। যেখানে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য রাখা হয়েছে সাড়ে ৬ শতংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে সাড়ে ৫ ভাগ আর বিনিয়োগের লক্ষ্য থাকছে জিডিপির ৩০ দশমিক ৩ ভাগ। বাজেটে সরকারি বিনিয়োগের হার কমানো হলেও, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে বেশি।
বাস্তবে এখন প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ কয়েক বছর ধরে নিম্নমুখী, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে। তাই বাজেটের লক্ষ্য অর্জনযোগ্য মনে করছেন না গবেষকরা।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটকে সুযোগ হারানোর (মিস অপরচুনিটিস) বাজেট বলা যায়। বাজেটে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বেশ বড় একটা ফারাক দেখতে পাচ্ছি। মূল সমস্যাটা হলো, পুরোনো বাজেটের কাঠামোর মধ্যেই নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাজেটে যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়।’
গবেষকেরা বলেন, বাজেটে কর-কাঠামোতে সুবিচার করা হয়নি। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। এতে বাড়বে বৈষম্য, যা এসডিজি বাস্তবায়নের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ নয়।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মিসড অপরচুনিটি, আমি বলব, লস্ট অপরচুনিটি। কারণ হলো যে, এইবারই একটা সুযোগ ছিল, একটা বেঞ্চমার্ক করে দেওয়ার, যে বেঞ্চমার্কের ভিত্তিতে আমরা আগামীতে নির্বাচিত সরকার আসবে তাদের আমরা অ্যাকাউন্টেবল করতে পারতাম যে, আপনি এটা থেকে পিছিয়ে যেতে পারবেন না।’
বাজেটের প্রক্রিয়া ও কাঠামো পুরোনো। সাধারণ জনগণের জন্য পদক্ষেপ নেই, স্বচ্ছতা ও জবাদিহিতারও অভাব আছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভুলভ্রান্তির বাজেট, সংস্কারবিমুখ বাজেট এবং একইসাথে সাম্য বিরোধী বাজেট। বাজেটের ভেতর দিয়ে সংস্কারের ধারণা চেতনা আমরা সামনে এনেছিলাম। এ সরকার নিজে আমাদের দিয়ে যেই কাজগুলো করিয়েছিল সেগুলোর প্রতি তারা বিশ্বস্ত থাকেনি।’
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, জন আকাঙ্ক্ষার বাজেট প্রণয়নে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়নি। এসময় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার তাগিদ দেন ব্যবসায়ীরা।