নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুনরায় দরপত্র দিলেও মিলছে না সাড়া

প্রতিযোগিতা এড়িয়ে বিদায়ী সরকার ৩১ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছিল। এসব প্রকল্প বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার পুনরায় দরপত্র দিলেও তেমন সাড়া মেলেনি। এজন্য উন্মুক্ত দরপত্রের পদ্ধতি আরো সহজ ও স্বচ্ছ করার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা। 

আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে সিপিডির মতবিনিময়ে তারা বলেন, বিনিয়োগ শুরু হওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়া উচিৎ।

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সৌর, বায়ুর মত নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে চাহিদার ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করেছে। যা ২০৪০ সাল নাগাদ বেড়ে হবে ৩০ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও জ্বালানি আমদানির চাপ বিবেচনায় এসব লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ অবকাঠানো নির্মাণে এদেশে বিনিয়োগের নীতি তুলনামূলক জটিল, সময় ও খরচ লাগে বেশি। 

এমন অবস্থার মধ্যেই সরকার পরিবর্তনের পর প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া ৩১ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। যেখানে সম্ভাব্য ৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আসতো। মিলতো প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ।  

চায়না এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সভাপতি হান কুন বলেন, ‘নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে ২০-২৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করা হয়। হঠাৎ করে বিদ্যুতের দর পরিবর্তনের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। এতে চীনা বিনিয়োগকারীরা সমস্যায় পড়েছেন। যেখানে সহায়ক পরিবেশ পেলে এদেশে সৌর বিদ্যুতে আরো বিনিয়োগ আসবে।’

গবেষকরা বলছেন, প্রতিযোগিতাহীন ডিপিএম পদ্ধতি বাতিল ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। তবে বিনিয়োগ প্রক্রিয়াধীন থাকা প্রকল্পগুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করা দরকার। অন্যথায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে। 

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এলওআইয়ের ব্যাপারে একটা পর্যালোচনা কমিটি করে সহানুভূতির সাথে যেগুলোকে নেওয়া যায় সেগুলোকে দ্রুত নেওয়া। যেগুলোর বোর্ড পরিবর্তন করা দরকার সেগুলোর বোর্ড পরিবর্তনের সাজেশন দেওয়া। সেই সঙ্গে একটি ইতিবাচক বার্তা বিনিয়োগকারীদের দেওয়া। এখন আমরা যে টেন্ডার পাচ্ছি না এর অন্যতম কারণ হলো বিনিয়োগকারীরা দ্বিধার মধ্যে পড়ে গেছে।’

বিইআরসি চেয়ারম্যান জামাল আহমেদ বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি  ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এ অর্জন সম্ভব হবে তখনই যখন এই বাধাগুলো দূর করতে পারব।

মতবিনিময়ে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লেটার অব ইনটেন্ট পাওয়া ১৫ কোম্পানি সৌর বিদ্যুতের জন্য জমিসহ বিভিন্ন খাতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। যা আটকে গেছে নীতি পরিবর্তনের জটিলতায়।  

হরি সাহা, ইনডিপেনডেন্ট নিউজ, ঢাকা।