অর্থনীতির বড় বিপর্যয় ঠেকানো গেলেও, গত একবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ে নিম্নমুখী ধারা দেখা গেছে।
আজ রোববার রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি তাদের পর্যালোচনায় জানায়, ব্যাংক খাত ছাড়া উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, সম্ভাবনা প্রমাণ করতে পারলে ঋণখেলাপীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে নির্দিষ্ট উদ্যোক্তাকে।
এক বছর পার করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সময় দেশে রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয় ও রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে। এছঅড়া, মূল্যস্ফীতি কমলেও এখনো সামষ্টিক অর্থনীতি গতি পায়নি। কমছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের হার। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ৩৮ টি সংস্কার চাহিদার মূল্যায়নে ৯টিকে সবুজ, ১৮টি হলুদ ও ১১টি লাল চিহ্নিত করেছে সিপিডি।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এখনো উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি, বিনিয়োগ আসেনি।’
মতবিনিময়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও, নীতির ধারাবাহিকতা না থাকায় নিয়মিত কারখানা বন্ধ হচ্ছে।’ এসময় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ‘অর্থপাচার বন্ধ হওয়ায় বেড়েছে প্রবাসী আয়।’
মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘পলিসির ক্ষেত্রে আমরা সবসময় লক্ষ্য পরিবর্তন করি। আর এটার কারণে স্থানীয় বিনিয়োগ খুব একটা হয় না। এফডিআইয়ের ক্ষেত্রে পলিসির সার্পোট থাকতে হবে। টেকসই পলিসি যদি না থাকে তাহলে এফডিআই কীভাবে হবে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পলিসি আমরা দেব, আপনারা স্বচ্ছ ভাবে নিজ উদ্যোগে করবেন। সক্ষমতা বৃদ্ধি করেন, আমরা আপনাদেরকে দিব। সরকারের ভূমিকা না কমালে, ফিজিক্যাল কন্টেন্ট না কমালে দুর্নীতি বন্ধ হবে না বাংলাদেশে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসু বলেন, ‘প্রতি বছর নগদ টাকা ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় খরচ হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এই চাপ কমাতে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর বিকল্প নেই।’
তিনি জানান, ব্যাংকার, গ্রাহক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে সুযোগ পাবে সম্ভাবনাময় ব্যবসায়ীরা।
ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেন, ‘কোনো ক্ষেত্রে যদি কোনো উদ্যোক্তা তার বিশেষ কারণ দেখিয়ে যদি সে প্রমাণ করতে পারে যে সে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে, তাহলে অবশ্যই তার সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে এগিয়ে যেতে দেব।’
আলোচনায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতকে টেকসই অবস্থানে নিতেও অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রূপরেখা দিতে পারেনি।