সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে জিডিপি, মাথাপিছু আয়সহ অর্থনৈতিক সূচকগুলো বাড়িয়ে দেখানো হয়। এমন মন্তব্য করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারসহ নানা মহল থেকে। অথচ এখনো বাস্তবসম্মত তথ্য-উপাত্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ লক্ষ্যে স্বাধীন কমিশন গঠনের তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
আওয়ামী শাসনামলের প্রথম ১০ বছর, গড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি, আর ১৫ বছরে জিডিপি ৫ গুণ বেড়ে ৪৬০ বিলিয়ন ডলার হয় বলে দাবি করে সরকারি সংস্থা– বিবিএস। তবে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, ক্রয়ক্ষমতা, ভোক্তাবাজারসহ বিভিন্ন বিচারে জিডিপির আকার নিয়ে সন্দেহ ছিল দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও দাতাগোষ্ঠীর। পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি, জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের হার কম দেখাতেও বিবিএসে হস্তক্ষেপ করেছে বিগত সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারকরাও অতিরঞ্জিত, মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে সমালোচনা করেন। কিন্তু গত এক বছরেও সঠিক তথ্য উদঘাটনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে সঠিক নীতি গ্রহণ অসম্ভব বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি আনোয়ার-উল আলম পারভেজ বলেন, ‘বিগত সরকার এলডিসি থেকে উত্তরণে উন্নয়নকে অতিরঞ্জিত করে দেখাতে চেয়েছে। শিল্পের সক্ষমতাসহ অর্থনীতির সঠিক তথ্য তুলে আনতে বর্তমান সরকারও গুরুত্ব না দেওয়া হতাশাজনক।’
বিবিএসের তথ্য-উপাত্ত অভিজ্ঞ পরামর্শকের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করার তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের বাজেটের আগেই গুরুত্বপূর্ণ সূচকের পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত ছিল।’