চুয়াডাঙ্গার হাটবাজারগুলো এখন শীতের আগাম সবজিতে ভরে গেছে। এসব সবজির বেশিরভাগই জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও খুলনায় এই সবজির চাহিদা বেশি। কৃষকদের আশা, পুরো মৌসুম জুড়ে তারা ভালো লাভ পাবেন।
কৃষকরা জানান, আগাম শীতের সবজি হিসেবে ফুলকপি, বাঁধাকপি, পুইশাক, শিমসহ নানা সবজি এরই মধ্যে বাজারে এসেছে। মৌসুমের শুরুতে সাধারণত এসব সবজির ভালো দাম পান কৃষকরা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বাজারে থাকা সবজিগুলো কেজিপ্রতি ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
একজন কৃষক বলেন, ‘ঢাকা, মানিকগঞ্জ থেকে শুরু করে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সব জায়গাতেই আমরা সবজি বিক্রি করি। সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, বাগেরহাট—সব জায়গায় চুয়াডাঙ্গার সবজি যায়।’
একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘কোটচাঁদপুর থেকে চুয়াডাঙ্গায় এসেছি কপি নিতে। কপি নিয়ে কারওয়ান বাজারে যাবো। ১৫–২০ দিন হলো শুরু করেছি। পুরো শীত মৌসুমে নিয়ে যাবো। পুরো মৌসুমে ৪০০ ট্রাক সবজি নেওয়ার লক্ষ্য আছে।’
কৃষকরা জানান, শীতের সবজি চাষে বিঘাপ্রতি খরচ ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ভালো দাম পেলে প্রতি বিঘা থেকে লাভ আসে ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর জেলার বাইরে যেমন ঢাকা বা সিলেটে পাঠালে লাভ হয়ে যায় দ্বিগুণেরও বেশি।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ফুলকপি, ধনিয়া বাজারে এসেছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাতেও যাচ্ছে সবজি। দামও ভালো। দাম ভালো হওয়ায় কৃষকরা খুশি। আমরা মনে করি, আগাম সবজি চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর চুয়াডাঙ্গার ১০ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে শীতের আগাম সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ফুলকপি চাষ হয়েছে ১,২৫৫ হেক্টর জমিতে, বাঁধাকপি ৭৩৫ হেক্টরে, আর ৩৯৫ হেক্টরে হয়েছে পুইশাকসহ খিরা, কাঁচাকলা, পটল, লালশাক, মুলাসহ নানা সবজির চাষ।