১০ বছরে বিদ্যুৎ খাতের জন্য জ্বালানি আমদানি বেড়েছে তিন গুণ। বিশেষজ্ঞরা জানান, এক সময় এক চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো আমদানি করা জ্বালানি থেকে, এখন তা দাঁড়িয়েছে দুই তৃতীয়াংশে। কয়লা, এলএনজি ও ফার্নেস অয়েলের পাশাপাশি ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিও বাড়ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ ও ভর্তুকি। একে জ্বালানি খাতের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
১৫ বছর আগেও সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো আমদানি করা জ্বালানি থেকে। এখন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মিলে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা-আইইইএফএ বলছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিলো আমদানি নির্ভর। পরের ৫ বছরে যা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৫০, ৫৬, ৫৭, ৬২ ও ৬৫ শতাংশে।
আইইইএফএর প্রধান এনার্জি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, এই যে গ্রেজুয়ালি বাড়ছে, গ্রেজুয়ালি না দ্রুততার সাথে বাড়ছে এ কারণে আমাদের ডলারের ওপর চাপ পড়ছে, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে যখনই একটি অস্থারতা সৃষ্টি হচ্ছে তখন আমাদের দাম সমন্বয় করতে হয়।
তিনি বলেন, আমরা যেভাবে দেখতে পাচ্ছি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আমরা আরও বেশি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়বো। কারণ আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলো অনেকটা স্থবির হয়ে আছে।
আমদানি বাড়ায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রতি ইউনিটের খরচ ছিল ৫ টাকা ৯১ পয়সা, বিক্রি হতো ৪ টাকা ৮৮ পয়সায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৩৫ পয়সায়, আর বিক্রি ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। ৪ টাকা ৫৭ পয়সার ঘাটতি মেটানো হচ্ছে সরকারের ভর্তুকি দিয়ে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে হলে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত জ্বালানি নীতিমালা। একই সঙ্গে জ্বালানি দক্ষতা না বাড়ালে চাপ আরও বাড়বে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ইকোনোমিক স্লো ডাউনের অনেকগুলো কারণ আছে। একটা কারণ হচ্ছে, এই সরকার ঠিকমত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। কিন্তু আরেকটা কারণ হচ্ছে ঠিকমত ইন্ডাস্ট্রি অ্যানার্জি পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, হ্যাঁ, ইকোনোমিক স্লোডাউনতো অলরেডি আরম্ভ হয়ে গেছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমি মনে করি সাংঘাতিক সিচুয়েশনে আমরা পড়বো দুই তিন বছরের মাথায়। আমাদের সমস্যাটা এত কঠিন হয়ে গেছে যে এখন ম্যানেজ করাটাই আমাদের হাতে নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের আমদানি নির্ভরতা অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে, আর সেই বোঝা বহন করছে সাধারণ মানুষ।