বেড়েছে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের হার, দরিদ্রতাকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা

গত ৬ বছরে ১২ লাখ শিশু নতুন করে শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে পড়েছে। সেই সঙ্গে গত কয়েক বছরে বাল্যবিবাহের হারও বেড়েছে। বিবিএসের সবশেষ জরিপে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা এসব সূচকের নেতিবাচক অবস্থার জন্য দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে গতিশীল করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন তারা।

২০১৯ সালে দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৭ শতাংশ শিশু কর্মে নিয়োজিত ছিল। যা এখন ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এতে ১২ লাখ শিশু নতুন করে ঝুঁকিতে পড়েছে। ৮৬ শতাংশ শিশু সহিংস আচরণের শিকার হচ্ছে। খাদ্য ও পরিবেশ দূষণের প্রভাবে প্রতি ১০ জনে ৪ জন শিশুর রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ঢাকায় এই হার সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ, যা শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।

রোববার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ৬ বছরে সারাদেশে বাল্যবিবাহের হার ৫১ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ শতাংশে নেমে এলেও গত ২–৩ বছরে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের প্রবণতা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষণা সংস্থা পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “শিশুশ্রম বেড়ে গেছে—এটা চিন্তার বিষয়। শিশুশ্রম কেন বাড়ল? কারণ পরিবার পর্যায়ে একধরনের অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে শিশুরা ঝুঁকিতে পড়ছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু উদ্বেগজনক বিষয় বেড়েছে। একই সঙ্গে ফার্টিলিটি রেটও বাড়ছে, যা অনেক দিন স্থবির ছিল।”

বিবিএসের জরিপ বলছে, কম ওজনের শিশু জন্মহার এবং মায়েদের রক্তস্বল্পতা বাড়ছে। দেশের ৫১ শতাংশ সন্তান জন্ম হচ্ছে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। শিশু সুরক্ষায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে পদ্ধতিগত উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষকরা।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “সোশ্যাল প্রটেকশনকে আরও উন্নত করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হলো—অর্থনীতির চাকা যাতে বেগবান হয়। এজন্য উদ্যোক্তা শ্রেণির সঙ্গে আরও বেশি আলোচনা করা দরকার। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য খাতে সার্বিক ডেলিভারি ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। নতুন আরেকটি স্বাস্থ্য কমিশনের রিপোর্টের প্রয়োজন নেই—আগের রিপোর্টেই অনেক সুপারিশ রয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে ঢেলে সাজানো দরকার।”

বিবিএসের জরিপে আরও জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু ভর্তির হার বাড়লেও অনেকেই মৌলিক দক্ষতা অর্জন ছাড়াই শিক্ষা সমাপ্ত করছে। সারাদেশে ১০ কোটির বেশি মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে রয়েছে।