সব নাগরিকের জন্য ডিজিটাল ডেটা ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এই ওয়ালেটে নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব। বুধবার রাজধানীতে আইসিটি বিভাগ ও আইসিএমএবির উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘বেআইনিভাবে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দিয়েছিল বিগত সরকার।’
ইন্টারনেটভিত্তিক ডিজিটাল বিশ্বব্যবস্থায় ব্যক্তিগত তথ্য, ইন্টারেনেট জ্বালানি। তাই ডেটা সুরক্ষা মজবুত, ডিজিটাল যোগাযোগকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন।
সম্মেলনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আইন ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তিনটি আলাদা অধিবেশনে আলোচনা হয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন, শিল্পখাত ও নীতিগত বিভিন্ন বিষয়ে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতিমধ্যে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা এর সার্বিক বিষয় নিয়ে কাজ করছি। আগামী দেড় বছরের মধ্যে আমরা এটা তৈরি করতে পারব বলে আশা করি।’
এসময় সাইবার সিকিউরিটি আইন সংশোধনসহ ডেটা সুরক্ষায় অন্তবর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষপ তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘ব্যক্তিগত তথ্যের বিষয়ে জনগণের মাঝে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই। আমরা এমন একটা পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছি, যাতে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারে, তার তথ্যের গুরুত্ব কতটুকু।’
তথ্যের নিরাপত্তায় মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়হীনতা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও জানানো হয় সম্মেলনে। এছাড়া কার্যকর বাস্তবায়ন ও নাগরিক আস্থা অর্জন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বক্তারা।