সরকারি অর্থব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার: সিপিডি

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিনিময় হারের পতন ঠেকানো গেলেও রাজস্ব ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকটের মত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তাই আগামীর সরকারকে নীতির ধারাবাহিকতা ও সাহসী সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে। শনিবার রাজধানী সিপিডি কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে গবেষকরা এসব কথা বলেন। তাদের মতে, ব্যাংকিং খাত সংস্কার ছাড়া টেকসই অর্থনীতি সম্ভব নয়। 

সচরাচর বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ করতে পারেনা এনবিআর। এর মধ্যেই নির্বাচনী বছরে মন্থর অর্থনীতিতে ৫৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাড়ানো হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবসম্মত কিনা সে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রাজস্ব ব্যয়ের চাপেই এমন পথে এনবিআর। এদিকে, অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হার ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এমন অবস্থায় বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ সিপিডির।

শনিবার 'বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬ নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি' শীর্ষক আলোচনায় গবেষকরা বলেন, সামনের সরকারকে সুশাসন নিশ্চিতে ও দুর্নীতি দমনে জোরাল পদক্ষেপ নিতে হবে ।   

সিপিডি'র নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, 'সরকারি অর্থব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। রাজস্ব আদায় বাড়ানো, উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়ন জোরদার করা এবং ঘাটতি অর্থায়নে সংযত নীতি অনুসরণ করা হবে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার একটি ভিত্তি। নির্বাচনপরবর্তী সময়ে নীতি ধারাবাহিকতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর প্রধান শর্ত হবে।'

বাজেটে ঋণ নির্ভরতা কমাতে ও রাজস্ব খাতের সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের তাগিদ দেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, সুদ-আসল পরিশোধের চাপ ঝুঁকিতে ফেলছে অর্থনীতিকে।   

সিপিডি'র সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'স্বাধীনতা-পরবর্তীতে যে বাজেটগুলো দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সবসময়ই সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা-পেনশন ছিল নাম্বার ওয়ান এবং শিক্ষা ছিল নাম্বার টু। এখন কিন্তু শিক্ষা চলে গেছে নাম্বার থ্রি'তে। দেশি এবং বিদেশি ঋণের সুদের পরিষেবা চলে এসেছে নাম্বার টু'তে। তো এটা থেকেও বোঝা যায় যে, একটা ঋণ ফাঁদে আমরা পড়ে যেতে পারি।'

বক্তারা বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেবল সুদহার বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। মজুদদারি রুখে দিয়ে পরিবহণ ও সংরক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।