৪০ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের অর্থনীতি

ইরানে প্রায় ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চাপে দেশটির অর্থনীতি। শিল্পখাতে উৎপাদন কমে গেছে। বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নতুন করে নয়টি জাহাজে নিষেধাজ্ঞার পর, অচিরেই সংকট কাটারও নেই কোনো লক্ষ্মণ। রয়টার্স।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে সম্প্রতি বিক্ষোভে সহিংসতায় প্রাণহানিকে কেন্দ্রে করে, নয়টি জাহাজ ও আটটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এতে, দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতকের নিষেধাজ্ঞার মাঝে নতুন করে চাপে পড়েছে দেশটি।

তেহরানের প্রতিটি কারখানায় নিষেধাজ্ঞার ছাপ স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার কারণে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত। উৎপাদন খরচ বাড়ায় জিনিসপত্রের দামও মাত্রা ছাড়িয়েছে।

ইরানি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক মেহদি কাশানি বলেন, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দিনদিন আরও কঠোর হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যে আমরা মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছি। নিষেধাজ্ঞা ইরানের শিল্পখাতে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে বাজারে পণ্যের দামও বেড়েছে।’

বার্ষিক মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরেই ৫০ শতাংশের ওপরে। গত এক দশকে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য কমেছে ৯০ শতাংশেরও বেশি। নিষেধাজ্ঞা কবে কাটবে তা-ও অনিশ্চিত।

অর্থনৈতিক চাপে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে ইরানের সাধারণ মানুষ। পণ্যের চড়া দাম, ওষুধ সংকট আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের লড়াই দিন দিন কঠিন করে তুলছে ইরানিদের জীবন সংগ্রাম।

সইরান ইনস্টিটিউট ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ আলি ফেকরি বলেন, ‘আমি এটিকে একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা বলতে আগ্রহী, যার একটি শাখা হলো নিষেধাজ্ঞা। অনেক দেশের ক্ষেত্রে তারা (আমেরিকা) ভিন্ন কৌশলও ব্যবহার করছে, যেমন শুল্ক যুদ্ধ।’

১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। সম্পদ জব্দের মাধ্যমে শুরু হলেও পরে সন্ত্রাসবাদে সহায়তা, পারমাণবিক কর্মসূচি ও মানবাধিকার ইস্যুতে তা আরও কঠোর হয়। এই নিষেধাজ্ঞার মূল টার্গেট ইরানের জ্বালানি, নৌপরিবহন ও আর্থিক খাত।