দেশের বিমা ব্যবসায় নবায়ন ফি বাড়িয়েছে সরকার। কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়ামের আয়ের ওপর মাশুল বাড়িয়ে হাজারে আড়াই টাকা করা হয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত এই ফি বাড়ানো হয়েছে।
বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বিমা ব্যবসায় নানা সংকটের মধ্যে ফি বাড়ানোয় এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার খরচও বাড়বে। তাই এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
দেশে ৮২টি বিমা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে তাদের ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩৬টি জীবনবিমা ও ৪৬টি সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদেরকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমান ফি দিয়ে ব্যবসা করতে হয়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এত দিন হাজারে ১ টাকা ফি দিলেও, চলতি বছর তা বাড়িয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয় ২০২৬, ২৭ ও ২৮ সালের জন্য বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট প্রিমিয়ামের বিপরীতে নিবন্ধন নবায়ন ফি দিতে হবে হাজারে আড়াই টাকা। এছাড়া ২০২৯ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত দিতে হবে হাজারে ৪ টাকা এবং পরবর্তী সময় থেকে দিতে হবে হাজারে ৫ টাকা করে।
ফি বাড়ানো প্রসঙ্গে আইডিআরএ মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, 'এটা আইডিআরএ-এর একক সিদ্ধান্ত নয়। এটা সকল ধরণের স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজনদের) সাথে মিটিং করে, অনেকবার মিটিং করে...তাঁরাই এটা প্রস্তাব দিয়েছে যে, এটা এক টাকা থেকেই আড়াই টাকা হোক এবং পরবর্তীগুলো ধাপে ধাপে বাড়ানো হোক।'
দীর্ঘদিন ধরে বিমা ব্যবসায় মন্দা, তার ওপর আস্থাহীনতায় ভুগছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ সময়ে নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হয়নি বলে জানায় প্রতিষ্ঠানগুলো।
ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান রিজওয়ান উর রহমান অভিযোগের সুরে বলেন, 'নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এসে একটা আইন করা, যেটাতে একটা নেতিবাচক প্রভাব আপনার পুরো বিমা খাতে আরও পড়তে পারে। এমনিতেই বিমা খাতের অবস্থা খারাপ।'
তবে আইডিআরএ বলছে, ৫৪টি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এবং জনবল বৃদ্ধি ও সক্ষমতা বাড়াতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন করে নবায়ন ফি বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আইডিআরএ মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি আরও বলেন, 'এটা হলে আইডিআরএ সব কিছু ঘাড়ে নিয়ে- এসএমএস, ডিজিটাইজেশন, দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিচালনা করার জন্য তাঁরা মোটামুটিভাবে চলতে পারবে।'
তবে ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান বলছেন ভিন্ন করা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যারা ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে তাঁদের জন্য ফি হবে এত, যারা ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে তাদের জন্য ফি হবে এত। আপনি ধারাবাহিক সবাইকে যদি এভাবে করে দেন, আপনি কিন্তু তখন এগোতে পারবেন না। আপনাকে টার্গেট করতে হবে যে, আমি আমার জিডিপি'তে আমার কনট্রিবিউশন কীভাবে বাড়াব। এটাইতো হবে... প্রধান কাজ।'
নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও যুক্তি, তাদের সক্ষমতা বাড়লে এ খাতে প্রতারণা কমবে, বিমা দাবি নিষ্পত্তির হারও বাড়বে।