নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতিতে রয়েছে যেসব চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এটাই নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। জনগণকে স্বস্তি দিতে মূল্যস্ফীতি কমানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। তাঁরা বলছেন, বাড়াতে হবে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়।   

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক, কিন্তু রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ।  

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিত্যপণ্যের দামে ততটা স্বস্তি ফেরেনি। জানুয়ারিতেও মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে। তার ওপর রাজস্ব ঘাটতি ও বিনিয়োগ সংকটে চাপে রয়েছে অর্থনীতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন দুর্নীতি দমন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, 'উনারা যদি দুর্নীতি দূর না করতে পারেন,... উনারা যদি স্বচ্ছতা না আনতে পারেন, উনারা যদি জবাবদিহি ব্যবস্থা না করেন,... তাহলে রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা, এমনকি মানবসম্পদ উন্নয়ন, কোনোটিই দক্ষভাবে করা যাবে না।  

বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, 'ব্যাংক খাতে লুটপাট ও টাকা পাচারের কারণে ব্যাংকগুলোর অবস্থা দুর্বল, রয়েছে তারল্য সংকট। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থনীতি ও বিনিয়োগে গতি আনতে নতুন সরকারকে হতে হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত। দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং পুরো জিনিসটাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দেশকে আগে প্রাধান্য দিতে হবে দলের থেকে।...যেটা আমাদের প্রাপ্য গ্যাস সেটা আমরা পাচ্ছি না, এবং এটার জন্য উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।'  

এছাড়া বন্দরে জট নিরসন, মুদ্রাস্ফিতি কমিয়ে আনা, ব্যাংকের বিদ্যমান উচ্চ ইনটারেস্ট রেট হ্রাস করা- এই বিষয়গুলোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এদিকে, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, 'বিগত সরকার এই গ্যাসটাকে প্রায়োরেটাইজ করেছে সারে। সার তো আপনি বহির্বিশ্ব থেকে কিনে আনতে পারেন, হতে পারে দু'টাকা দাম বেশি। কিন্তু ওই গ্যাসটা যদি ইনড্রাস্ট্রিতে প্রবাহিত না হয়, ইনড্রাস্ট্রি কিন্তু বন্ধ হয়ে যাবে, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।' 

অর্থনীতিতে বহুমুখী সংকট মাথায় নিয়ে যাত্রা শুরু করবে নতুন সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, পথ কতটা স্বস্তির হবে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।