আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চাঁদাবাজি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ। আজ সোমবার নতুন সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
এ সময় শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানায় ঢাকা চেম্বার। চাঁদাবাজি বন্ধ করা না গেলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ব্যবসায়ী নেতারা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এখন বিএনপি। গঠিত হয়েছে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা।
এ সময় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চাঁদাবাজি বেড়েছে। তবে নতুন সরকার এটি বন্ধ করতে না পারলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে না বলে আশঙ্কা তাঁর।
তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘চাঁদাবাজি কিন্তু একটা রোগ। এটা আমাদের রক্তে ঢুকে গেছে। পুলিশ প্রশাসনও তো চাঁদা খায়, আয়কর কর্মকর্তারাও তো চাঁদা খায়। এখানে যেখানে রক্তে রক্তে চাঁদা, রক্তে রক্তে দুই নম্বরি করার চেষ্টা করি। কিন্তু যখন ক্যান্টনমেন্টে যাই, সব কিন্তু সোজা।’
এ সময় তাসকিন আহমেদ আরও জানান, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদনমুখী শিল্পে ব্যয় বেড়েছে। সংকট কাটাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ব্যাংকের নীতি সুদহার কমানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমাতে বাজার তদারকি জোরদার করার পরামর্শ তাঁর। তিনি বলেন, শুল্ক ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রপন্থী চুক্তি করেছে।
তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট যেখানে আমেরিকার পাল্টা শুল্ককে অবৈধ করেছেন। আমরা জানতে চাই, যে ট্রেড ডিল করা হয়েছে, এটাও কি অবৈধ হয়ে গেছে? নাকি ওটা এখনো বলবৎ আছে?’
নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানায় ডিসিসিআই।