শিল্পখাতে বিনিয়োগে বাঁধা জ্বালানি সংকট: সিপিডি

জ্বালানি সংকটের কারনে দেশের শিল্পখাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি, বিকল্প জ্বালানিতে খরচ বাড়ছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। বুধবার রাজধানীতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি'র আলোচনায় এসব কথা বলেন তারা। এসময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, পুরো বিনিয়োগ পদ্ধতিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা সরকারের।

বিটিএম-এর তথ্য বলছে, সময়মতো অর্থায়ন না হওয়ায় দেশের ৩০০ পোশাক করখানা বন্ধ হয়েছে, যেখানে মাত্র ২০০ কোটি টাকা অর্থায়নের প্রয়োজন ছিল। তার ওপর উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকটে থমকে আছে বিনিয়োগ। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমেছে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে।

এমন বাস্তবতায় নতুন সরকারের ১৮০ দিনের করনীয় বিষয়ে সিপিডি'র আলোচনায় ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি অপর্যাপ্ততায় হিমশিম খাচ্ছেন তারা। নীতি-সহায়তা না পেলে আসবে না নতুন বিনিয়োগ।

ইন্টরন্যাশনাল চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে আজাদ বলেন, 'কোনো নতুন কানেকশন (যোগাযোগ তৈরি) হচ্ছে না। নতুন কানেকশন না হওয়ার কারণে আমি শিল্পে নতুন বিনিয়োগ করতে পারছি না। আমি মেশিনারি আনতে পারছি না।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষ ইন্ডাস্ট্রি করে বসে থাকে ২-৪ বছর। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। এই সরকার নতুন ইন্ডাস্ট্রি, নতুন কর্মসংস্থান দেখবে না, আমি আপনাদের বলে রাখলাম।' 

এসময় দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে গতানুগতিক ব্যবস্থা থেকে সরে এসে বিনিয়োগভিত্তিক টেকসই অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তোলার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। 

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, 'দ্রুততার সাথে আমরা কনজাম্পশন-লেড (ভোগ নির্ভর) মডেল থেকে ইনভেস্টমেন্ট-লেড (বিনিয়োগ নির্ভর) মডেলে যেতে চাই। কনজাম্পশন-লেড মডেল দিয়ে আপনার টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব নয়।' 

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচীকে সফল করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আলোচকরা।

জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, 'নতুন সরকারের জন্য (এটি বিরাট) এক চ্যালেঞ্জ হবে। এখন ব্যুরোক্রেসিকে অফেন্ড করেও আগানো যায় না। 

অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ জানিয়েছেন, 'প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি'র ওপর আমি (বাংলাদেশ) নির্ভরশীল... আমার প্রোডাকটিভ ক্যাপাসিটিতে যেতে হবে।' 

বক্তারা বলেন, যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বিনিয়োগ না করে খেলাপি হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠের ব্যবস্থা না নিলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না।