স্বাধীনতার পাঁচ দশকে অর্থনীতি এগোলেও শতভাগ সুফল আসেনি

স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এই সময়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বৈষম্য, বেকারত্ব এবং মূল্যস্ফীতির চাপে সেই অগ্রগতির সুফল এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি সাধারণ মানুষের ঘরে। দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাবও এই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ধ্বংসস্তুপ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। জিডিপি বেড়েছে, কমেছে দারিদ্র্য। তবুও বিনিয়োগ সংকট, আয় বৈষম্য এবং কর্মসংস্থানের অভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

১৯৭১ সালের ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বর্তমানে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৪৫৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক। পাশাপাশি প্রবাসী আয়ও অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি। 

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে, চরম দারিদ্র্য ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্প দেশের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, প্রয়োজন সমতা ও টেকসই উন্নয়ন।

এ প্রসঙ্গে সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘দক্ষতা বৃদ্ধি করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা, অপচয় কমানো, ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে আনা- এই জায়গাটি করতে আমরা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছি। ফলে অর্থনীতি এগিয়েছে সত্য, কিন্তু অংশগ্রহণমূলক একটি যে অর্থনীতি, যেখানে ক্ষুদ্র-মাঝারি থেকে শুরু করে বৃহৎ আকারে সকলেই যুক্ত হতে পারবেন, তা হয়নি।’ 

এদিকে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও সুশাসনের ঘাটতিতে ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না, ফলে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বাড়ছে। উচ্চ বেকারত্ব, শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে।

আইবিএফবি’র সাবেক সভাপতি হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা সম্পূর্ণতা না পাওয়ার পেছনে আমাদের সবচাইতে বড় যে জিনিস সেটা হচ্ছে, আমাদের রিফরমেশন (সংস্কার) কমপ্লিট (সম্পন্ন) হয় নাই। বন্দর ব্যবস্থাপনা বলেন, পরিবহণ বলেন, লজিস্টিকস বলেন, অনেকগুলো পিলিসি দিয়ে কিন্তু আমরা এখনও এগিয়ে যেতে পারছি না।’  

পাঁচ দশক পরও, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা যেন অধরা স্বপ্নই রয়ে গেছে সাধারণ মানুষের জন্য। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়নের হিসাব শুধু সংখ্যায় নয় প্রতিফলন ঘটাতে হবে মানুষের জীবনমানেও। তবেই অর্থনীতির প্রকৃত স্বাধীনতা মিলবে।