সুদহার কমানো ও ঋণের সীমা বাড়ানোর দাবি এফবিসিসিআই'র

বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণের সুদহার কমানো, ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং একক গ্রাহক ঋণসীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সোমবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান সংগঠনের নেতারা। 

এছাড়া সংকটময় পরিস্থিতিতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার দ্বিগুণ করার দাবিও জানান ব্যবসায়ীরা। জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদের চাপে দীর্ঘদিন মন্দাবস্থায় দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারনে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা উদ্যোক্তাদের।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নরের সাথে বৈঠকে সুদ হার কমানো, একক গ্রাহক ঋণ সীমা বাড়ানোর দাবি জানান তারা। এছাড়া ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আহ্বান জানান তারা।

এফবিসিসিআই মহাসচিব মোঃ আলমগীর বলেন, 'ব্যাংক ইনটারেস্ট রেট (ঋণের সুদহার) কি করে কমানো যায় এবং ডলারের সাথে টাকার যে এক্সচেঞ্জ রেট সেটা কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়, এবং বাজারে ডলারের সাপ্লাই যাতে অক্ষুণ্ণ রাখা যায়, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের যে সরবরাহ আসে সেটার কারণে আমাদের অতিরিক্ত টাকা লাগবে, সেজন্য আমাদের বৈদেশিক মুদ্রায় যাতে টান না পড়ে সে ব্যাপারে তাঁদেরকে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।' 

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, 'এখন যেটা আড়াই বিলিয়ন ডলার আছে সেটাকে অতিসত্বর পাঁচ বিলিয়ন করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি...আর ইনসেনটিভের যে টাকাটা দীর্ঘদিন আটকে থাকে সেটা প্রতি মাসে ক্লিয়ার করার কথা বলেছি এবং উনিও (গভর্নর) এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন।'   

এসময় ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখার আশ্বাস দেন গভর্নর। রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বাড়ানোর ব্যাপারেও ইতিবাচক বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারি মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, 'ডলার বাজার স্থিতিশীল আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ওভাবে হস্তক্ষেপ করেনি। আপনারা দেখেছেন যে, নেট ওপেন পজিশনে যখন বড় একটা নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট হয়ে যায়, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা মার্কেট থেকে তুলে আনে। এবার দেখা যাচ্ছে যে, কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করেনি।' 

এছাড়া, ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে সুদের হার কমানোর পাশাপাশি  ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোর দাবিও জানান ব্যবসায়ী নেতারাা।