ভার্চুয়াল মাইগ্রেশনের নামে নতুন একটা ধারণা সামনে এনেছেন বিশেষজ্ঞরা। বলছেন, শিক্ষিত বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এর জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এটা করতে পারলে বিদেশে গিয়ে অড জব করার প্রবণতা কমবে। সুযোগ বাড়বে দেশে বসেই বিদেশ থেকে আয় করার। একই সঙ্গে অবৈধ ও অদক্ষ অভিবাসন ঠেকানো যাবে।
বছরে বিদেশে যায় ১০ থেকে ১৩ লাখ শ্রমিক। অবৈধভাবে যায় ১ থেকে ৩ লাখ। বৈধ ও অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া শ্রমিকদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই অদক্ষ। বেশিরভাগই চাকরি করেন নির্মাণ শ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কৃষি ও পশু পালন শ্রমিক ও গৃহকর্মী হিসেবে। এদের মাসিক আয় গড়ে ১০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
এই বেতনে বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় অদক্ষ শ্রমিকদের। অথচ বৈধ বা অবৈধ পথে যেতে অনেক টাকা খরচ হয়, জীবনের ঝুঁকিও নিতে হয়।
কিন্তু অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বাড়াতে পারলে আরও বেশি আয় করা সম্ভব। এ জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা যদি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের কাজে উৎসাহিত করি এবং ভিসা বি মাইগ্রেশনে উৎসাহিত করি। একজন অভিবাসীকর্মী যে সুবিধাগুলো পাচ্ছে সেগুলো ভার্চুয়াল মাইগ্রেশনে কাজ করাদেরও দিতে হবে। তাহলে দেশে বসেও রেমিট্যান্স আয় করা সম্ভব। ট্যাক্স ছাড় ও প্রণোদনা তাদেরও দিতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে থেকে যারা বিদেশের কাজ করছেন তাদেরও অভিবাসনের স্বীকৃতি দিতে হবে। তাঁদের মতে, ভার্চুয়াল মাইগ্রেশনের সুবিধা পেলে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে। এ ছাড়া এরা দক্ষ হয়ে বিদেশে গেলে অড জবও করতে হবে না।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘ভার্চুয়াল মাইগ্রেশন কনসেপ্টটা এমন, ধরুন বাসায় বসে বিদেশে একজন স্টুডেন্ট পড়াচ্ছে এবং এইভাবে সে যে রেমিট্যান্সটা দেশে আনছে। এটাকে আন্সটিটিউশনাইজ করা যায় কি না। এটা আউটসোর্সিংয়ের থেকে অনেকটা আলাদা। আউটসোর্সিংয়ে যেমন একটা স্ট্যাবলিশমেন্ট লাগে, অনেক লোক নিয়োগ করতে হয়, ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপ করতে হয়, কম্পিউটার সেটআপ ডেভেলপ করতে হয়। আর ভার্চুয়াল মাইগ্রেশন হচ্ছে সেই ইনডিভিজুয়াল ঘরে বসে এত বড় ধরনের ইনভেস্টমেন্ট না করে সে নিজেই একজন ভার্চুয়াল মাইগ্রেন্ট হিসেবে কাজটা করতে পারবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আউটসোর্সিং জগতে বাংলাদেশের দখলে থাকা বাজার এখনও খুব ছোট। সরকার গুরুত্ব দিলেই পরিধি বাড়তে পারে। এগিয়ে নিতে হবে ভার্চুয়ার মাইগ্রেশন ধারণাকেও।
বিএসিসিওয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ফয়সাল আলিম বলেন, ‘ভার্চুয়াল মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ইনভলভমেন্ট খুবই কম। ইউ ক্যান ডু সাম ওয়ার্ক হুইচ ইজ ডিজিটালি পসিবল। দোজ কাইন্ড অব ওয়ার্কের জন্য আপনি মাইগ্রেশন নিতে পারবেন, বাংলাদেশে বসে কাজ করতে পারবেন। ইউ উইল বি ট্রিটেড এজ এ মাইগ্রেন্ট, ইউ উইল বি গেট পেইড ফরেন কারেন্সি। আপনাকে বাংলাদেশ থেকে বের হতে হলো না কোথাও, টাকাও লাগল না, ভিসার জন্য খরচ করতে হলো না, দালালের খপ্পরেও পড়তে হলো না। কিন্তু কাজগুলো হতে হবে ডিজিটাল কাইন্ড অফ ওয়ার্ক। উইদাউট ডিজিটাল ওয়ার্ক ভার্চুয়াল মাইগ্রেশন মোটেও সম্ভব না।’