গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাদুর শিল্প ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। কাঁচামালের স্বল্পতা, প্লাস্টিক পণ্যের প্রতিযোগিতাসহ নানা কারণে কমছে চাহিদা। সাতক্ষীরায় মাদুর তৈরিতে যুক্ত আছে কয়েক শ পরিবার। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় পিতৃপুরুষের পেশা ছেড়েছেন অনেকে। পরিবেশবান্ধব এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ চান কারিগরেরা।
মাদুর শিল্পের জন্য এক সময় দেশজুড়ে বিখ্যাত ছিল সাতক্ষীরা। জেলার আশাশুনি ও তালা উপজেলায় ব্যাপকহারে চাষ হতো মাদুরের মূল উপাদান ‘মেলে’ বা পাতি। লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার উৎস ছিল এই মাদুর।
গত কয়েক বছরে প্লাস্টিকের মাদুরের কারণে কমেছে মেলে মাদুরের চাহিদা। এদিকে জমির লবণাক্ততা, চাষ কমাসহ নানা কারণে বেড়েছে কাঁচামালের দাম। দিন দিন কমছে লাভের অঙ্ক। এসব প্রতিকূলতার মাঝেও জেলার কয়েক শ পরিবার টিকিয়ে রেখেছে পরিবেশবন্ধব এই শিল্প। নারীদের শ্রম আর নিপুণ ছোঁয়ায় বেঁচে আছে লোকজ ঐতিহ্য।
এক মাদুর কারিগর বলেন, ‘এই মাদুর বিক্রি করে আমি সংসার চালাই। এ ছাড়া ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগাই। বাইরে থেকে মাদুর আসছে বিধায়, আগের চেয়ে মাদুরের দাম কম পাচ্ছি।’
আরেক কারিগর বলেন, ‘লাভ তেমন একটা নেই। তবুও এ পেশা ধরে রেখেছি। বয়স হয়েছে, এটা ছাড়া অন্য কিছু করতে পারি না। মাদুর বুনে এখন আর লাভ নেই। মেলে কিনতে হয় বাকিতে। মাদুর বেচে সেই মেলের দাম দিতে হয়। অল্প কিছু থাকে, তাই দিয়ে সংসার চালাতে হয়।’
কারিগরেরা আরও জানান, একটি মেলে মাদুর তৈরিতে মেলে ও পাটের দড়ি মিলে খরচ হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। একটি মাদুর তৈরি করতে প্রায় এক থেকে দুদিন সময় লাগে। সপ্তাহে তিন থেকে চারটি মাদুর তৈরি করা সম্ভব হয়। এই মাদুরগুলো আবার বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। নামাজী মাদুর ১০০ টাকা থেকে এগারো পোয়া মাদুর ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। কাঁচামালের দাম বাড়ায় মাদুর বিক্রির আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
বেসরকারি সংস্থার তথ্য বলছে, জেলার প্রায় ৩০০ পরিবার এখনও মাদুর শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ঐতিহ্যবাহী এ পণ্যটি ধরে রাখতে কারিগরদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।
সাতক্ষীরা বিসিকের প্রমোশন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকায় এখনও মাদুর শিল্প টিকে আছে। তবে প্লাস্টিক মাদুর আসার ফলে মেলে মাদুরের চাহিদা কমে গেছে। মাদুর শিল্পীদের আয়ও কমে গেছে। বিসিকের মাধ্যমে অল্প সুদে লোন দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তারা চাইলে সেটা নিতে পারেন।