বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরেক দফা বেড়ে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বুধবার এ তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ'র বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে দেশের রিজার্ভ এখন ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হিসাব করার ক্ষেত্রে আইএমএফ তাঁদের ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়ালের ষষ্ঠ সংস্করণটি অনুসরণ করে থাকে। সংক্ষেপে এই পদ্ধতিটি বিপিএম-৬ নামে পরিচিত। এই হিসাব পদ্ধতি অনুসারে বাংলাদেশের রিজার্ভ দীর্ঘদিন পর ৩০ বিলিয়নের মাইলফলক অতিক্রম করল।
রিজার্ভ বাড়ার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। চলতি মাসের (এপ্রিলের) প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২৫ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
গত ১৩ ও ১৪ এপ্রিল- এই দুদিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭১ মিলিয়ন ডলার, যা রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়।
চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৭ দশমিক ৮১৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে সংখ্যাটা ছিল ২৩ দশমিক শূন্য ছয় নয় বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধির হার ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা দেশের বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে গত মার্চে রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, বৈধ চ্যানেলে প্রণোদনা এবং ডলার বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা—এই তিনটি কারণ রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি রমজান ও ঈদ ঘিরে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতাও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ বাড়লেও অর্থনীতির সামগ্রিক ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং ডলার বাজারের চাপ এখনও বিদ্যমান। এ অর্জন ধরে রাখতে হলে রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং বৈদেশিক আয়ের উৎস বহুমুখীকরণ জরুরি।
সার্বিকভাবে, স্বল্পমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সই প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। ডলার সংকট মোকাবিলা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে এই প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার এবং বিকল্প বৈদেশিক আয়ের খাতগুলো সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।