আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফের বেশ কিছু শর্তে এখনো সম্মতি দেয়নি বাংলাদেশ। এগুলোর নিষ্পত্তিতে আরও ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন, কোনো অবস্থাতেই জনস্বার্থ বিরোধী কিছু করা হবে না। রোববার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, যেখানে ঋণ ছাড়ের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। তবে কবে নাগাদ ঋণের বাকি অর্থ পাওয়া যাবে সেটা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আইএমএফের ঋণ ছাড়ের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনা শেষ হয়নি। ওদের ডিমান্ড আছে, আমাদের চাওয়াও আছে। এটা মিউচুয়াল ব্যাপার। আমরা তো নির্বাচিত সরকার। জনগণ ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ পরবে এমন সিদ্ধান্ত তো আমরা নিতে পারব না। আইএমএফের সাথে আলোচনা চলছে। আরও ১৫-২০ দিন, এক মাসও আলোচনা হতে পারে।’
ঋণের কিস্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে সময়ক্ষেপণের কারণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'এই আলোচনাগুলো অনেকে বুঝতে চায়না। এই আলোচনা কিন্তু একটি চলমান প্রক্রিয়া। একটা মিটিংয়েই সব সিদ্ধান্ত হয়ে গেল- বিষয়টি এমন নয়।'
আইএমএফের কিছু শর্তের সাথে বাংলাদেশ এখনও একমত নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার জনস্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দেবে।
তিনি বলেন, 'ওরা চাইলেই আমি ওদের কথামতো করতে পারব না। এখানে আমাদের জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের বাইরে গিয়ে আমরা তো কোনো কিছু নেবও না। এটা দুই পক্ষেরই ব্যাপার।'
এ বিষয়ে তিনি আরও জানান, ‘বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, আইডিবিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ আসবে। সবাই বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে চায়।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে আইএমএফের সঙ্গে ঋণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২০২৩ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হয়। পরে ২০২৫ সালে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এরই মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশকে ৩৬৪ কোটি ডলার দিয়েছে আইএমএফ। চুক্তি অনুযায়ী এখনও বাকি ১৮৬ কোটি ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে এই কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইএমএফ জানায়, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে অর্থ ছাড় দেয়া হবে।
এমন পরিস্থিতিতেই গত ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দেন অর্থমন্ত্রী। গত ডিসেম্বরে ঋণের কিস্তির অর্থ পাওয়া না গেলেও আসছে জুলাইতে দুই কিস্তির টাকা একসাথে পাওয়ার আশা করছিল বাংলাদেশ।
এদিকে, শনিবার দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়েও আজ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থমন্ত্রীর দাবি, তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নাও বাড়তে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আইএমএফের (ঋণের) সাথে (তেলের) দাম বাড়ানোর কোনো সম্পর্ক নেই। আমি পরিষ্কার ভাষায় বলছি, এটা বরঞ্চ আমরা দামও কিন্তু বেশি বাড়াইনি। তহবিলের ওপর এতো চাপ আসছে, আমাদের তো বাকী প্রোগ্রাম চালাতে হবে।'