তামাক খাত নিয়ে গবেষণা  

আয় ৪০ হাজার কোটি, এর কারণে ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি

গত অর্থবছরে তামাকজাত পণ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তাই এসব পণ্যে কর ও দাম বাড়ানোর দাবি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা প্রজ্ঞার। এছাড়া কর কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সংস্কার প্রয়োজন বলেও মত সংস্থাটির।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রাক বাজেট সংবাদ সম্মেলন সংস্থাটি জানায়, গত অর্থবছরে তামাক খাত থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় এসেছে। যদিও তামাকজাত পণ্যের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে এর দ্বিগুণের বেশি।

এ অবস্থায় সিগারেটের মূল্য স্তর চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করার দাবি প্রজ্ঞার। এছাড়া সব সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুলে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর দাবিও জানান আলোচকরা। তাঁরা বলেন, তামাক ও তামাকজাত পণ্যে কর কাঠামো খুবই জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় সিগারেট কোম্পানিগুলো কর ফাঁকি দিচ্ছে। সব স্তরে কর কাঠামোর সংস্কারের দাবিও জানান বক্তারা।

প্যাকেটের উপর চার টাকা সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার দাবি জানান তাঁরা। একই সাথে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের ৬০ থেকে ৮০ টাকা দামের সিগারেটের দাম ১০০ টাকা করার প্রস্তাব দেন তারা। এছাড়া প্রতি ১৪০ টাকার এক প্যাকেট সিগারেটের দাম ১৫০ টাকা করা ও ১৮৫ টাকার এক প্যাকেট সিগারেট দাম ২০০ টাকা করার দাবিও জানান বক্তারা।

বিআইআইএসএস-এর গবেষণা পরিচালক মাহফুজ কবির বলেন, ‘তামাকের ব্যবহার মানেই হচ্ছে স্বাস্থ্যের ভয়ংকর ক্ষতি, মৃত্যু। সরকারি যে অর্থ খরচ করা হয় স্বাস্থ্য খাতে, সেটি বেড়ে যাওয়া। এবং এই জটিল-কঠিন রোগের কারণে দারিদ্র বিমোচনও কিন্তু অনেক কঠিন হয়ে যায়। সুতরাং সরকার যেরকম চিন্তা করছে যে প্রবৃদ্ধি বাড়াবেন, বিনিয়োগ বাড়াবেন, কর্মসংস্থান তৈরি করবেন, দারিদ্র কমাবেন… এগুলার কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হবে না, যদি আমরা তামাকের ব্যবহারটা না কমাই।’