মালিকানা ফিরে পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকে পুরোনো পরিচালকদের দৌড়ঝাঁপ

মালিকানা ফেরত পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবারো দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিভিন্ন ব্যাংকের পুরোনো পরিচালকারা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এজন্য আইন অনুযায়ী নামে বেনামে নেওয়া ঋণের অর্থ পরিশোধ, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনাসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হবে তাদের। 

সম্প্রতি একীভূত হওয়া কয়েকটি ব্যাংকের সাবেক মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের মাধ্যমে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আবারও সক্রিয় হচ্ছেন ব্যাংকের সাবেক পরিচালকসহ কয়েকটি বিতর্কিত গোষ্ঠী।

নতুন আইন অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংক পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার এ পর্যন্ত যে অর্থ ব্যয় করেছে, তার সাড়ে ৭ শতাংশ পরিশোধ করে আগের মালিকরা এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। শুধু পাঁচ ব্যাংক নয়, ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো পরিচালকদেরও ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘পূর্ববর্তী মালিক ও শেয়ার হোল্ডারদের আমরা যাদের বোর্ড থেকে অপসারণ করেছি তাদের ফিরে আসতে কিছু শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ঋণের অর্থ পরিশোধ, পাচারের অর্থ ফেরত আনা এবং তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেয়ে আসলে আর বাধা নেই।’ 

ব্যাংক খাতের আস্থা ফেরাতে এর পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার তাগিদ বিশ্লেষকের। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি পুরোনো মালিকরা আবারো প্রভাব বিস্তার শুরু করেন, তাহলে এখাতে সুশাসন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংকের পেশাদারিত্ব নষ্ট হলে, এ খাত আস্থার সংকটে পড়বে বলেও জানান তারা। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য এ খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিতের তাগিদ তাদের।