চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে আবারও ভারতকে টপকে যাবে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর যেখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ৯১১ ডলার। সেখানে ভারতের হবে ২ হাজার ৮১২ ডলার। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে এ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএমএফ।
আয়তনে ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় আট গুণ বড়। ২০২৫ সালে ভারতের জিডিপি ছিল ৩ হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশের মাত্র ৪৫৮ বিলিয়ন ডলার। এত বড় ব্যবধান সত্ত্বেও মাথাপিছু আয়ে ভারতের সঙ্গে সমানে সমানে পাল্লা দিচ্ছে বাংলাদেশ।
আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ৯১১ ডলার। আর ভারতের ২ হাজার ৮১২ ডলার। বাংলাদেশ প্রায় ১০০ ডলারের ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে।
আইএমএফের মতে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি। পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয় বাড়াতে সহায়তা করছে।
মাথাপিছু আয়ে দুই দেশের এই কাছাকাছি অবস্থান নতুন নয়। ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত টানা ১৩ বছর এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এরপর ভারত প্রায় ১৫ বছর নেতৃত্ব দেয়। তবে ২০২৫ সালে টাকার মান কমে যাওয়ায় ভারত সাময়িকভাবে এগিয়ে গেলেও, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আবারও এই ব্যবধান টপকে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু এই ঘটনাকে বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখাসহ উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান তাদের।