আকাশসীমা ব্যবহার থেকে বছরে রাজস্ব আয় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। সিভিল অ্যাভিয়েশন জানায়, যে কোনো উড়োজাহাজ দেশের আকাশসীমায় একবার ঢুকলেই দিতে হয় গড়ে ৬০ হাজার টাকা। ল্যান্ডিং, রুট নেভিগেশন ও পার্কিংয়ের জন্যও দিতে হয় আলাদা চার্জ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের চার্জ নিচ্ছে ভারত, এ তথ্য পুরোপুরি গুজব। এর কোনো সুযোগ নেই।
ভৌগোলিক কারণে আকাশে চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুট বাংলাদেশ। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের কমপক্ষে ৬০০ ফ্লাইট ব্যবহার করছে আকাশসীমা।
বাংলাদেশের ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওন (এফআইআর) এ অন্য দেশের উড়োজাহাজের উপস্থিতি সবার আগে ধরা পরে রাডারে। এই রাডারে ধরা পড়া সব উড়োজাহাজকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হয়ে। এ থেকে দিনে রাজস্ব আসে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, ‘টোটাল রেভিনিউয়ের শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ আসে আমাদের অ্যারোনিটিক্যাল চার্জ থেকে। অ্যারোনিটিক্যাল চার্জ মানে– ওভার ফ্লায়িং অর্থাৎ আমাদের আকাশ সীমার ওপর দিয়ে যে প্লেনগুলো চলে যাচ্ছে এখানে নামছে না। আরেকটি হচ্ছে ল্যান্ডিং চার্জ। যেগুলো প্লেন ল্যান্ড করছে সেগুলোর কিছু চার্জ আছে। রুট নেভিগেশনেরও একটা চার্জ আছে। একটা প্লেন এখান থেকে চিটাগং যাচ্ছে সে তো আমার কিছু সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করছে, এটাই রুট নেভিগেশন।’
সিভিল অ্যাভিয়েশন জানায়, এক সময় বাংলাদেশের সুন্দরবনের ওপর দিয়ে মিয়ানমারে যাওয়া উড়োজাহাজ শাহজালাল বিমানবন্দরের রাডারে ধরা পড়তো না। তখন কলকাতার সহায়তা নেওয়া হতো।
এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে এতদিন পর্যন্ত ইন্ডিয়া মনে হয় আমাদের রাজস্ব নিয়ে যাচ্ছে–এ ধরনের মিথ প্রচলিত আছে আমাদের মাঝে। এটি আসলেই মিথ, এটা সত্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলে আমাদের তখন পূর্ব পাকিস্তানে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্ট্রং ছিল না। সো আমাদের সুন্দরবনের ওপর দিয়ে যে একটা রুট গেছে, সেটি কলকাতা হয়ে চলে গেছে ডিরেক্ট রেঙ্গুনের দিকে মানে যেটাকে আমরা মিয়ানমার বলি। এই রুটটা কিছুটা সুন্দরবনের দিক দিয়ে গেছে, বাকিটা গেছে চিটাগংয়ের দক্ষিণ দিক দিয়ে। এই রুটগুলোর ওপর দিয়ে যখন প্লেনগুলো ফ্লাই করত তখন ঢাকা থেকে তাদের রেডিওতে ডেকে পাইতো না। কিন্তু কলকাতা আবার পেত।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশসীমায় ঢুকলে চার্জ দিতেই হবে। এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে সুন্দরবনের দক্ষিণ দিয়ে থাইল্যান্ডের রুটটি নিয়ন্ত্রণ করে কলকাতা। তবে তারও রাজস্ব পায় বাংলাদেশ। এ রুটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ভারতসহ আইকাকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।
বেবিচক ও সিভিল অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ কে এম জিয়াউল হক বলেন, ‘আমাদের এখন এই সক্ষমতাটা আছে। আমরা এখন সারা বাংলাদেশে সমস্ত এয়ারস্পেসে পুরোটাই কিন্তু এখন আমরা রাডারের মাধ্যমে দেখতে পারব এবং কন্ট্রোলও করতে পারব। সুতরাং ওই অংশটুকু (সুন্দরবন) আমাদের নেওয়ার জন্য জোর পারসু করা উচিত।’
বেবিচক জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯৪০ কোটি টাকায় বসানো হয়েছে ফ্রান্সের থ্যালাসের নতুন রাডার। এর মাধ্যমে ঢাকা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আকাশসীমার নির্ভুল চিত্র ধরা পড়ে।